ইরান যুদ্ধের প্রভাব সামালাতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন তার ক্ষোভের বড় অংশই ঘুরিয়ে দিচ্ছেন পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর দিকে, যা জোটটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউরোপীয় মিত্ররা সমর্থন না দেওয়ায় ট্রাম্প ক্ষুব্ধ। তারা হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলতে সামরিক সহায়তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে মার্কিন যুদ্ধবিমানকে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতিও দেয়নি।
ব্রাসেলস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ব্রিটিশ দৈনিক টেলিগ্রাফকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ন্যাটোকে ‘কাগুজে বাঘ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে জোট থেকে প্রত্যাহারের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছেন।
সম্পর্কের টানাপোড়েন
ট্রাম্পের এ মনোভাব নতুন নয়। এর আগেও তিনি ন্যাটোকে ‘অচল’ বলে অভিহিত করেছিলেন এবং সদস্য দেশগুলো প্রতিরক্ষা ব্যয় না বাড়ালে তাদের সুরক্ষা না দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
এবার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে, কারণ শুধু ট্রাম্প নন—যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও সতর্ক করেছেন, ইউরোপীয় দেশগুলো যদি মার্কিন বাহিনীকে ঘাঁটি ব্যবহারে বাধা দেয়, তবে ওয়াশিংটনকে ন্যাটোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে।
সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত আইভো ডালডার বলেন, এই সংকট জোটের ভেতরের আস্থার ভিত্তিকেই নাড়িয়ে দিয়েছে। তার মতে, ‘এটি ন্যাটোর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকট হতে পারে।’
ইউরোপের অনাগ্রহ
ইউরোপীয় দেশগুলো এবার ট্রাম্পের চাপে নতি স্বীকার করতে অনিচ্ছুক। কারণ, ইরানে হামলার আগে তাদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করা হয়নি। ফলে তারা এখন এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে চায় না।
এক ন্যাটো কূটনীতিক বলেন, ‘দিন দিন পরিস্থিতি আরও গুরুতর হচ্ছে।’
টিকে থাকার আশাবাদ
তবে সবাই হতাশ নন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, ‘ন্যাটো বহু দশক ধরে আমাদের নিরাপত্তা দিয়েছে, আমরা এই জোটে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটেও মনে করেন, ট্রাম্পের চাপ ইউরোপীয় দেশগুলোকে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াতে বাধ্য করেছে, ফলে জোট আগের চেয়ে শক্তিশালী হয়েছে।
সামনে বড় পরীক্ষা
জুলাইয়ে তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠেয় ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্পের সঙ্গে অন্যান্য ৩১ নেতার মুখোমুখি বৈঠক হতে যাচ্ছে, যা এই সংকটের একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বিরোধ মিটে গেলেও ট্রাম্প ক্ষমতায় থাকা পর্যন্ত ন্যাটোকে ‘রোলার-কোস্টার’ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হতো।
একই সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে ভাবনা জোরদার হয়েছে।