হরমুজ প্রণালি জোরপূর্বক খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক পদক্ষেপ নিতে চাপ দিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। পাশাপাশি এ ধরনের অভিযানে সহায়তা দিতেও দেশটি প্রস্তুত বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। মঙ্গলবার রাতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ধারাবাহিক হামলার মুখে আমিরাত হরমুজ প্রণালি খুলতে একটি সামরিক অভিযানের অনুমোদন দিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব আনার চেষ্টা করছে।
এক আমিরাতি কর্মকর্তা জানান, দেশটির কূটনীতিকরা যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপ ও এশিয়ার কিছু সামরিক শক্তিকে নিয়ে একটি জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে জোরপূর্বক হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া যায়। এ লক্ষ্যে সম্ভাব্য সামরিক অবদান কী হতে পারে, তাও পর্যালোচনা করছে আবুধাবি।
এছাড়া, হরমুজে ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা দ্বীপগুলো—বিশেষ করে আবু মুসা দখলে নেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছে আমিরাত, যা তাদের নিজেদের দাবি করা ভূখণ্ড।
এ বিষয়ে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি প্রতিবেদনটি অস্বীকার না করে জানায়, ‘হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখা প্রয়োজন, এ বিষয়ে বৈশ্বিক ঐকমত্য রয়েছে।’
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ, যেখানে দিয়ে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। ইরান পথটি বন্ধের হুমকি দিয়ে এটিকে কৌশলগত চাপ হিসেবে ব্যবহার করছে বলে উদ্বেগ রয়েছে।
সম্প্রতি উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে যাদের অধিকাংশেই মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, তারা ইরানের হামলার শিকার হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে হামলার আগে পর্যাপ্ত সতর্কতা না পাওয়ায় ক্ষোভ থাকলেও, এখন অনেক মিত্র দেশ মনে করছে এটি ইরানের ধর্মীয় শাসন দুর্বল করার একটি সুযোগ।
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইনের কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত আলোচনায় জানিয়েছেন, ইরানের নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন বা আচরণে নাটকীয় রদবদল না আসা পর্যন্ত তারা সামরিক অভিযান শেষ করতে চান না।
এদিকে বুধবার ভোরে উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে নতুন করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় জ্বালানি ট্যাংকে আগুন লাগে। বাহরাইনে একটি স্থাপনায় আগুন লাগার ঘটনাও ঘটেছে। কাতারের রাজধানী দোহার কাছে একটি তেলবাহী জাহাজ অজ্ঞাত হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে নাবিকরা নিরাপদ রয়েছেন।
অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হতে পারে। ওয়াশিংটন সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা ও সংঘাত কমানোর দিকেও নজর দিচ্ছে।
তবে একই সময়ে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে মেরিন সেনা মোতায়েন করেছে, যার মধ্যে হরমুজ প্রণালিও রয়েছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ তার কাছে বার্তা পাঠিয়েছেন। তবে সেগুলোকে আনুষ্ঠানিক আলোচনা বলা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।