ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পাকিস্তান সরকার পেট্রোলের দাম ৪৩ শতাংশ ও ডিজেলের দাম ৫৫ শতাংশ বাড়িয়েছে।
জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির ব্যাখ্যায় শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দেশটির পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকারের ‘সম্পদ সীমিত এবং এই যুদ্ধের কোনো শেষ বর্তমানে দেখা যাচ্ছে না’।
এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, পাকিস্তান মূলত আমদানিকৃত তেলের ওপর নির্ভরশীল এবং এর একটি বড় অংশ আসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে।
সম্প্রতি পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে, তারা ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ওই প্রণালি দিয়ে কিছু পাকিস্তানি পতাকাবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করতে পেরেছে।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর পাকিস্তানে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার জ্বালানির দাম বাড়ল। এতে যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতির তুলনায় পেট্রোল ৭৭ শতাংশ ও ডিজেলের দাম ৮৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে পাকিস্তানে নির্দিষ্ট কিছু ব্যবহারকারীর জন্য ভর্তুকি ঘোষণা করা হয়েছে।
মোটরসাইকেল আরোহীরা আগামী তিন মাস প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ২০ লিটার পেট্রোলে প্রতি লিটারে ১০০ রুপি করে ভর্তুকি পাবেন।
আন্তঃনগর গণপরিবহন পরিচালনাকারীরা ডিজেলে প্রতি লিটারে ১০০ রুপি ভর্তুকি পাবেন। আর যাত্রীবাহী বাস পরিষেবাগুলো মাসে সর্বোচ্চ ১ লাখ রুপি পর্যন্ত ভর্তুকি পাবে।
এ ছাড়া ক্ষুদ্র কৃষকদের ফসল কাটার মৌসুমে এককালীন একর প্রতি দেড় হাজার রুপি দেওয়া হবে। ট্রাকসহ পণ্যবাহী পরিবহনের ক্ষেত্রে মাসে সর্বোচ্চ ৭০ হাজার রুপি পর্যন্ত জ্বালানি ভর্তুকি দেওয়া হবে।
রেলভাড়া নিয়ন্ত্রণে রাখতে পাকিস্তান রেলওয়েকেও সহায়তা দেবে সরকার।
অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব জানান, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সরকারের পক্ষে বড় ধরনের স্বস্তি দেওয়া কঠিন এবং এই ছাড় কেবল একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত দেওয়া সম্ভব।
এসব পদক্ষেপ প্রতি সপ্তাহে পর্যালোচনা করা হবে এবং সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।