দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে ইরান। এসময় সেটির পাইলট জরুরি ভিত্তিতে ইজেক্ট (প্যারাসুটের সাহায্যে বেরিয়ে আসা) করতে সক্ষম হয়েছেন। ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাতে বার্তা সংস্থা এপি এই খবর নিশ্চিত করেছে।
ঘটনার পরপরই ওই মার্কিন পাইলটকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করেছে তেহরান।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ইরানের একটি টেলিভিশন চ্যানেলে এক সংবাদপাঠক বলেন, ‘যদি আপনারা শত্রু পাইলট বা পাইলটদের বন্দি করে পুলিশ বা সামরিক বাহিনীর কাছে জীবিত হস্তান্তর করতে পারেন, তাহলে আপনাদের মূল্যবান পুরস্কার দেওয়া হবে।’
একই সময় টেলিভিশনের স্ক্রলে জনসাধারণের উদ্দেশে বলা হয়, ‘তাদের (পাইলট) দেখামাত্রই গুলি করুন।’
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি তাদের এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের অনেক মানুষ মার্কিন পাইলটকে বন্দি করার জন্য নিজেদের গাড়ি নিয়ে দুর্ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছেন।
তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জনগণকে ওই পাইলটের সঙ্গে কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছে।
যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি
ইরানি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) মধ্য ইরানের আকাশে একটি মার্কিন এফ-৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে।
ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি ধ্বংসাবশেষের ছবি প্রকাশ করে দাবি করেছে, এটি ওই আমেরিকান জেটের অংশ এবং পাইলটের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ‘খুবই ক্ষীণ’।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর এনিয়ে তৃতীয়বার এফ-৩৫ ভূপাতিত করার দাবি করল ইরান। এর আগে গত ২৩ মার্চ এবং ২ এপ্রিল তেহরান একই ধরনের দাবি করেছিল।
তবে আগের দুটি দাবিই মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নাকচ করে দেয়।
কেশম দ্বীপের কাছে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার একটি ইরানি ভিডিওর প্রতিক্রিয়ায় সেন্টকম তাদের এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছিল, ‘আমাদের সব যুদ্ধবিমানের হিসাব আমাদের কাছে আছে। ইরানের আইআরজিসি এর আগে অন্তত ছয়বার এমন মিথ্যা দাবি করেছে।’
এদিকে আইআরআইবি আলাদাভাবে দাবি করেছে, যুক্তরাজ্যের আরএএফ লেকেনহিথ ঘাঁটি থেকে আসা ৪৯৪তম ফাইটার স্কোয়াড্রনের একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমানও গুলি করে নামানো হয়েছে।
তারা এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, বিমানের লেজের অংশের ধ্বংসাবশেষ থেকে এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে পাইলটদের পরিণতি এখনও অস্পষ্ট।