অস্ট্রেলিয়ার একটি তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৪ এপ্রিল) মধ্যরাতের ঠিক আগে মেলবোর্নের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত জিলং শহরের কোরিও এলাকায় অবস্থিত ভিভা এনার্জির একটি তেল শোধনাগারে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দেশটির জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, বুধবার মধ্যরাতের কিছু আগে জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। এ সময়েই সেখানে বিস্ফোরণ ও আগুনের খবর পাওয়া যায়। প্রায় ১৩ ঘণ্টা জ্বলতে থাকার পর বৃহস্পতিবার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ আহত হননি এবং আগুন লাগার সময় ঘটনাস্থলে থাকা কয়েক ডজন শ্রমিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এই শোধনাগারটি কেবল ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের অর্ধেকের বেশি জ্বালানি চাহিদাই মেটায় না, বরং পুরো অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ১০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করে। দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস বোয়েন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের ফলে শোধনাগারটির পেট্রোল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে ডিজেল ও জেট ফুয়েলের উৎপাদন সীমিত পরিসরে চালু রাখার চেষ্টা চলছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই অগ্নিকাণ্ড অস্ট্রেলিয়ার জন্য এমন এক সময়ে এলো যখন দেশটি এমনিতেই জ্বালানি সংকটে জর্জরিত। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার জেরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় অস্ট্রেলিয়া আগে থেকেই চাপের মুখে ছিল।
এদিকে ফায়ার রেসকিউ ভিক্টোরিয়া জানিয়েছে, ‘সরঞ্জাম বিকল হওয়ার’ কারণে আগুন লেগেছে এবং এ বিষয়ে একটি তদন্ত করা হবে।
শোধনাগারটি প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল তেল প্রক্রিয়াজাত করে এবং এখানে ১ হাজার ১০০ জনেরও বেশি লোক কর্মরত আছেন।
ভিভা এনার্জির প্রধান নির্বাহী স্কট ওয়াইট বৃহস্পতিবার এর আগে বলেছিলেন, আগুনে দুটি পেট্রোল উৎপাদন ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অন্যগুলো অক্ষত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অস্ট্রেলিয়া মূলত সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলো থেকে আমদানি করা পরিশোধিত জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, যার ফলে অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহের ওপর এই অগ্নিকাণ্ডের প্রভাব সীমিত থাকবে।