আল জাজিরার প্রতিবেদন
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রস্তাবিত শান্তি আলোচনা ‘শিগগিরই’ শুরু হবে কি না, তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাহ শরিফ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধ জানান।
তবে দু'পক্ষের মধ্যে এখনো বিস্তর ব্যবধান রয়ে গেছে। এই মুহূর্তে আলোচনার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি ও ইরানি বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করে রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনড় সিদ্ধান্ত।
এছাড়া লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়টিও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
গত এক সপ্তাহ ধরে মার্কিন প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রয়েছে পাকিস্তান। তবে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ইরানি প্রতিনিধিরা ইসলামাবাদে উপস্থিত হওয়ার বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা দেননি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানি বন্দর ও হরমুজ প্রণালির অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে ইরানের প্রতিনিধি দলের ইসলামাবাদ আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেও পাকিস্তানের তরফ থেকে জোরদার কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী।
তবে মূল সংকট নিরসনে দু’পক্ষের অবস্থান এখনো বিপরীত মেরুতে। ফলে শিগগিরই আলোচনার টেবিলে সমঝোতা হবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের ইসলামাবাদ সফরের কথা থাকলেও আপাতত সেই পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সবার নজর এখন তেহরানের দিকে।
ইরান শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে ফিরবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।