ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ দেশটির তেল রপ্তানি ব্যবস্থাকে ব্যাহত করেছে। তবে ইরানের তেল বোঝাই করার অবকাঠামো এখনো অক্ষত রয়েছে এবং তেলবাহী জাহাজগুলো চীনের দিকে যাত্রা অব্যাহত রেখেছে।
সামুদ্রিক তথ্য বিশ্লেষক সংস্থা কেপলার বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সিএনএনকে এমনটাই জানিয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বুধবার রাতে জানায়, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান অবরোধের অংশ হিসেবে মার্কিন বাহিনী ৩১টি জাহাজকে বন্দরে ফিরে যেতে অথবা পথ ঘুরিয়ে দিতে বাধ্য করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সেন্টকম জানিয়েছে, পথ ঘুরিয়ে দেওয়া এসব জাহাজের অধিকাংশই তেলবাহী ট্যাঙ্কার। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ওমান উপসাগর থেকে ইরানের পতাকাবাহী একটি জাহাজ জব্দ করেছে এবং ভারত মহাসাগরে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা একটি জাহাজে তল্লাশি চালিয়েছে।
কেপলারের তথ্য বলছে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনীর এসব তৎপরতা সত্ত্বেও ট্যাঙ্কারগুলো এখনো ইরানের লোডিং জোনগুলোতে অবস্থান করছে এবং ইরানি অপরিশোধিত তেল চীনের দিকে যাচ্ছে।
এই বিশ্লেষক সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, এপ্রিলের প্রথমার্ধে ইরান থেকে চীনে অপরিশোধিত তেল প্রবাহের পরিমাণ ছিল দিনে ৯ লাখ ৮৫ হাজার ব্যারেল।
হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল রপ্তানি করতে সক্ষম ইরানের জাস্ক টার্মিনালে বর্তমানে রেকর্ড ৫৮ লাখ ব্যারেল তেল মজুত রয়েছে বলেও জানিয়েছে কেপলার।
তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলো হরমুজ প্রণালি অতিক্রম না করেই জাস্ক টার্মিনাল থেকে ওমান উপসাগরে বেরিয়ে যেতে পারছে।
কেপলারের মতে, ‘মার্কিন নৌ-অবরোধ ইরানের তেল সরবরাহ ব্যবস্থাকে বিঘ্নিত করেছে ঠিকই, তবে এটি পুরোপুরি এই ব্যবস্থাকে ভেঙে দিতে পারেনি।’