সিএনএনের বিশ্লেষণ
সবার চোখ এখন তেহরানের দিকে। ইরানের নেতৃত্ব পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেবে, সেই অপেক্ষায় প্রহর গুনছে বিশ্ব। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের আগের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা এখন তেহরানের কাছ থেকে একটি সংশোধিত প্রস্তাবের প্রত্যাশা করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, ইরানের জবাব আজই (২৯ এপ্রিল) আসতে পারে, অথবা তা শুক্রবার পর্যন্ত গড়াতে পারে। এই বিলম্বের পেছনে একটি বড় কারণ হতে পারে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কাছে পৌঁছাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বেগ পেতে হচ্ছে।
ইরানের এই ধীরগতির বিপরীতে একেক পক্ষ একেকভাবে তাদের প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তার মন্ত্রিসভাকে জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে আলোচনা করতে আসা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তাকে ‘জবাব দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন’।
কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ না করলেও ইরানের প্রতি শাহবাজ শরিফের এই প্রকাশ্য তাগাদা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এর ঠিক আগেই হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, তাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে।
ট্রাম্পের গতকালের বক্তব্যেও এই বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট। আগের দিন যেখানে তিনি বলেছিলেন, ইরান তাদের ‘নেতৃত্বের সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে’, সেখানে আজ তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তাদের ‘দ্রুত বুদ্ধিমান হওয়া উচিত’।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সুর সম্ভবত তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর উদ্বেগেরই প্রতিধ্বনি। রুবিও প্রশ্ন তুলেছিলেন, ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা আদৌ তাদের সর্বোচ্চ নেতার নাগাল পাচ্ছেন কি না।
মোজতবা খামেনিকে এখনো জনসম্মুখে দেখা না যাওয়ায় তার কাছে পৌঁছানোর বিষয়টি এখন ‘প্রশ্নবিদ্ধ’।
ইরান যত দেরি করবে, প্রশ্ন তত বাড়বে। এই মন্থর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া কি সুদীর্ঘ যোগাযোগব্যবস্থার আড়ালে কোনো গোপন আস্তানায় খামেনির আটকে থাকার লক্ষণ? নাকি এটি কট্টরপন্থীদের কোনো সুক্ষ্ম চাল, যারা ইচ্ছা করেই তাকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে, যাতে ট্রাম্পকে চাপে ফেলে আরও সময় পাওয়া যায়?
এর কোনো নিশ্চিত উত্তর কারো কাছে নেই। আর সবাইকে এমন ধোঁয়াশায় রাখাই সম্ভবত ইরানের বর্তমান কৌশল।