ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে বিজয় থালাপতির দল তামিলাগা ভেট্টরি কাজাগামকে (টিভিকে) সমর্থন জানিয়ে দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাগামের (ডিএমকে) সঙ্গে দীর্ঘদিনের জোট ভাঙল কংগ্রেস।
বুধবার (৬ মে) কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টিভিকের সঙ্গে তাদের এই জোট কেবল সরকার গঠনের জন্যই নয়, ভবিষ্যৎ স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং লোকসভা ও রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্যও।
এক প্রতিবেদনে দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, তামিলনাড়ুতে জোট থেকে বেরিয়ে গেলেও কংগ্রেস ও ডিএমকে জাতীয় পর্যায়ে বিজেপিকে মোকাবিলা করার লক্ষ্যে গঠিত ইন্ডিয়া জোটে এখনো একসঙ্গে থাকতে পারে।
কংগ্রেস নেতারা উল্লেখ করেছেন, বাম দল, তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেস বিভিন্ন রাজ্যে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করা সত্ত্বেও জাতীয় পর্যায়ে এই জোটের অংশ হিসেবে রয়েছে।
তবে তামিলনাড়ুতে কংগ্রেসের ডিএমকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের সিদ্ধান্ত ইন্ডিয়া জোটের ঐক্য ও সংহতি নিয়ে প্রশ্ন তুলবে।
তামিলনাড়ু কংগ্রেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির (এআইসিসি) নেতা গিরিশ চোড়ানকার বলেন, ‘টিভিকে ও তামিলনাড়ু কংগ্রেসের এই জোট আগামী বছরগুলোতে পেরিয়ারের সামাজিক ন্যায়বিচারের আদর্শ এবং বি আর আম্বেদকরের সাংবিধানিক আদর্শের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থেকে রাজ্যে কামারাজের গৌরবময় দিনগুলো ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবে।
‘পারস্পরিক শ্রদ্ধা, যথাযথ অংশীদারিত্ব ও যৌথ দায়িত্বের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই জোট কেবল সরকার গঠনের জন্য নয়, বরং ভবিষ্যৎ স্থানীয় সরকার, লোকসভা ও রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্যও।’
তবে টিভিকে-কে কংগ্রেসের এই সমর্থনের একটি শর্ত রয়েছে। বিজয়ের দল কোনোভাবেই বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে পারবে না।
চোড়ানকার বলেন, ‘আমাদের সমর্থন তখনই বজায় থাকবে, যখন টিভিকে নতুন জোট থেকে সেই সব সাম্প্রদায়িক শক্তিকে দূরে রাখবে, যারা ভারতের সংবিধানে বিশ্বাস রাখে না।’
মজার বিষয় হলো, গত মঙ্গলবার এই ইস্যুতে কংগ্রেস হাইকমান্ডের অবস্থান ছিল, দলটি কোনোভাবেই বিজেপি বা তাদের ‘প্রক্সি’ বা ‘প্রতিনিধিদের’ তামিলনাড়ুর সরকার চালাতে দিতে চায় না।
তবে বিজয়ের টিভিকে ও নিখিল ভারত আন্না দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাগামের (এআইএডিএমকে) মধ্যে আলোচনার খবরের মাঝে অফিসিয়াল বিবৃতিতে কংগ্রেস ‘প্রক্সি’ শব্দটি উল্লেখ করেনি।
গত কয়েক বছর ধরে বিজেপির সঙ্গে জোটবদ্ধ থাকার কারণে ডিএমকে ও কংগ্রেস প্রায়ই অভিযোগ করে, এআইএডিএমকে আসলে নিজের স্বাধীন সত্তা হারিয়ে বিজেপির নির্দেশে চলছে। সম্প্রতি তারা জোট ভেঙে বেরিয়ে গেলেও বিরোধীরা তাদের বিজেপির ‘প্রক্সি’ হিসেবে আক্রমণ করে।