২০২৫ সালে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানকে সরাসরি কারিগরি সহায়তা দেওয়ার কথা প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে চীন। ওই সংঘাতের সময় চীনের একটি যুদ্ধবিমান ভারতের হাতে থাকা ফ্রান্সের তৈরি কমপক্ষে একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশন অব চায়নার (এভিআইসি) চেংডু এয়ারক্রাফট ডিজাইন অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রকৌশলী ঝাং হেং এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান।
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভিতে সাক্ষাৎকারটি প্রচার করা হয়।
ঝাং হেং জানান, ২০২৫ সালের মে মাসে যুদ্ধের সময় তিনি পাকিস্তানে অবস্থান করে দেশটিকে কারিগরি সহায়তা দিয়েছিলেন।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট বলছে, পাকিস্তানের বিমানবাহিনীতে চীনের তৈরি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান রয়েছে।
ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র পেহেলগামে ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন নিহত হন, যাদের অধিকাংশই পর্যটক। এই ঘটনার জেরে ৭ মে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ‘সন্ত্রাসী অবকাঠামো’ লক্ষ্য করে হামলা চালায় ভারত।
‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে ভারতের চালানো এই অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানও অভিযানে নামে। চারদিন ধরে চলে এই পাল্টাপাল্টি হামলা। একপর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় বিবদমান দুই পক্ষ।
গত বছর আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় জে-১০সিই মডেলের একটি বিমান ভারতীয় বিমানবাহিনীর ফ্রান্সের তৈরি অন্তত একটি রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে।
এটি ছিল চীনের তৈরি কোনো যুদ্ধবিমানের হাতে শত্রুবিমান ভূপাতিত হওয়ার প্রথম ঘটনা। একই সঙ্গে ইতিহাসে ওই প্রথম কোনো রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়। তবে সে বছর এনিয়ে মুখ খোলেনি চীন।
সেসময়ের অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে সাক্ষাৎকারে ঝাং বলেন, ‘সাপোর্ট বেসে আমরা ঘনঘন যুদ্ধবিমানের উড্ডয়নের গর্জন এবং অবিরাম বিমান হামলার সাইরেনের শব্দ শুনতাম। মে মাসে বেলার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা প্রায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছে যেত। এটি আমাদের জন্য মানসিকভাবে এবং শারীরিকভাবে কঠিন পরীক্ষা ছিল।’
ঝাং সিসিটিভিকে আরও জানান, যুদ্ধক্ষেত্রে তার দলের মূল লক্ষ্য ছিল ‘নিখুঁত কারিগরি সেবা নিশ্চিত করা’ এবং এটা দেখা, তাদের তৈরি সরঞ্জামগুলো যাতে লড়াইয়ের পূর্ণ সক্ষমতা প্রদর্শন করতে পারে।