প্রেমের সম্পর্ক থেকে একসঙ্গে ঘর বাঁধার স্বপ্ন, অতঃপর বাড়ি থেকে পালালেন তরুণ-তরুণী। ইচ্ছে ছিল শিগগিরই বিয়ে করে সংসার জীবন শুরু করবেন। কিন্তু মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়াল প্রেমিকার মায়ের করা একটি মামলা।
শুক্রবার (৮ মে) সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ঘুরে বেড়াচ্ছে। ভিডিওতে দেখা যায়, দুই তরুণ-তরুণী একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে। ‘কেউ কাউকে ছাড়া যাবে না’ এমনটাই বারবার বলছে। প্রিয় মানুষটিকে হারানোর বেদনায় একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন প্রেমিক-প্রেমিকা। চারপাশের মানুষের উপস্থিতি, কঠোর সিদ্ধান্ত কিংবা পরিবারের চাপ যেন কিছুই আলাদা করতে পারছিল না তাদের। দুই পরিবারের লোকজন তাদেরকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। কোনোভাবেই তাদের আলাদা করতে পারছিল না। একপর্যায়ে ওই প্রেমিক যুগলকে আঘাত করতে দেখা যায় কয়েকজনকে। তবুও যেন ছাড়াতে পারছিল না।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার রৌমারী সদর ইউনিয়ন পরিষদে ঘটনাটি ঘটেছে। এরপর এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় নানা আলোচনা-সমালোচনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রেমিক কবির হোসেন (১৯) উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের পদ্মার চর এলাকার জাহিদুর ইসলামের ছেলে। প্রেমিকা রৌমারী ইউনিয়নের বাসিন্দা।
গত ২৭ এপ্রিল কবির হোসেন তার প্রেমিকাকে নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তাদের সন্ধান পেতে ব্যর্থ হন। পরে তরুণীর মা আজিরন বেগম রোববার (৩ মে) রৌমারী থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন।
মামলার পর বৃহস্পতিবার (৭ মে) স্থানীয়ভাবে ইউনিয়ন পরিষদে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। এসময় তরুণীকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের সময় প্রেমিক-প্রেমিকা একে অপরকে ছাড়তে না চাওয়ায় ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।
রৌমারী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ছেলে-মেয়ে প্রেম করে পালিয়েছিল। পরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে আমার এখানে বৈঠক হয়। কিন্তু ছেলে-মেয়ে কেউ কাউকে ছেড়ে যেতে রাজি ছিল না। এ নিয়ে কিছুটা ঝামেলার সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ এসে তাদের থানায় নিয়ে যায়।’
এ বিষয়ে রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওছার আলী বলেন, ‘ওই তরুণীর মা একটি অহপরণ মামলা করেছেন। সেই মামলায় ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’