নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ রক্ষায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার যখন আপ্রাণ চেষ্টা করছেন, ঠিক তখনই তার সরকার থেকে একদিনেই পদত্যাগ করেছেন তিন মন্ত্রী।
দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১২ মে) একে একে পদত্যাগের ঘোষণা দেন অ্যালেক্স ডেভিস-জোনস, জেস ফিলিপস ও মিয়াট্টা ফানবুলে। নিজের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে লেবার পার্টির ভেতরে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ দমানোর চেষ্টা করছিলেন স্টারমার। এর মধ্যেই এই ধাক্কা এলো।
এদিন যুক্তরাজ্যের ভুক্তভোগীবিষয়ক মন্ত্রী ও পন্টিপ্রিডের সংসদ সদস্য ডেভিস-জোনস পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এর ঠিক এক ঘণ্টা আগে সুরক্ষাবিষয়ক মন্ত্রী জেস ফিলিপস পদত্যাগ করেন। তিনি স্টারমারকে ‘মূলত একজন ভালো মানুষ' হিসেবে অভিহিত করলেও নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার বিষয়ে পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ তোলেন।
সম্প্রদায়বিষয়ক মন্ত্রী এবং যুক্তরাজ্যের উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনারের ঘনিষ্ঠ মিত্র মিয়াটা ফানবুলেও তার পদত্যাগের কথা জানিয়েছেন। তিনি যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বারনহামের নাম প্রস্তাব করেছেন।
মঙ্গলবার সকালে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিদ্রোহী নেতাদের তাকে সরিয়ে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন স্টারমার।
তিনি বলেন, ‘নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য যে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া প্রয়োজন, তা এখনো শুরু হয়নি।’
ধারণা করা হয়েছিল, শাবানা মাহমুদ, জন হিলি, এড মিলিব্যান্ড, লিসা নন্দি, ইভেট কুপার ও ওয়েস স্ট্রিটিং, এই ছয় মন্ত্রী মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করবেন।
কিন্তু বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তাদের কথা বলার সুযোগ না দিয়ে উল্টো কেন তাকে ক্ষমতায় থাকা উচিত, সেই যুক্তিগুলোই তুলে ধরেন।
যুক্তরাজ্যে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবির জেরে নিজ দলে তোপের মুখে পড়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনে লেবার পার্টি গত এক শতাব্দীর মধ্যে প্রথমবারের মতো ওয়েলসের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারায়। এছাড়া লেবার পার্টি এমন কিছু কাউন্সিলও হারিয়েছে, যা আগে কখনো অন্য কোনো দলের দখলে ছিল না।
এমন পরিস্থিতিতে গত শনিবার স্থানীয় নির্বাচনে ব্যর্থতার জন্য স্টারমারকে দায়ী করে লেবার পার্টির কমপক্ষে ৩০ জন সংসদ সদস্য তার পদত্যাগ দাবি করেন। কিন্তু পদত্যাগে নারাজ স্টারমার।