বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা বর্তমানে প্রায় এক কোটি ৫৫ লাখে পৌঁছেছে। এর মধ্যে প্রায় ৭৪ লাখ ফিলিস্তিনি ঐতিহাসিক ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে বসবাস করলেও প্রায় ৮১ লাখ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে রয়েছেন।
মঙ্গলবার (১২ মে) ‘নাকবা’র ৭৮তম বার্ষিকী উপলক্ষে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো (পিসিবিএস)। ‘নাকবা’ বলতে ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘটনাকে বোঝায়, যা ফিলিস্তিনিরা স্মরণ করে থাকে।
বিবৃতিতে বলা হয়, গাজা উপত্যকা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযান এবং অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের কারণে ২০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
পিসিবিএস জানায়, যুদ্ধ শুরুর আগে গাজায় প্রায় ২২ লাখ মানুষ বাস করতেন। এর মধ্যে প্রায় ২০ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তাদের অনেকেই বর্তমানে তাঁবু, আশ্রয়কেন্দ্র এবং স্কুলে অবস্থান করছেন। এ ছাড়া চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কারণে পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলের শরণার্থী শিবিরগুলো থেকে প্রায় ৪০ হাজার ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
সংস্থাটি জানায়, পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ সেখানে অবৈধ বসতি ও সামরিক ঘাঁটির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৪৫টিতে। এর মধ্যে ১৫১টি অবৈধ বসতি, ৩৫০টি বসতি আউটপোস্ট এবং ১৪৪টি অন্যান্য স্থাপনা রয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ লাখ ৭৮ হাজার ৫৬৭ জনে। এর মধ্যে ৪২ দশমিক ৮ শতাংশ অবস্থান করছে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে।
পিসিবিএস আরও জানায়, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ২০২৫ সালে বাজেয়াপ্তকরণ আদেশ, সম্পত্তি অধিগ্রহণ এবং ‘রাষ্ট্রীয় ভূমি’ হিসেবে ঘোষণার মাধ্যমে ৫ হাজার ৫৭১ ডুনাম (প্রায় ১ হাজার ৩৭৭ একর) ফিলিস্তিনি জমি দখল করেছে।
২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের ৬১ হাজারের বেশি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এতে ৮১ হাজারের বেশি গাছ উপড়ে ফেলা বা ধ্বংস করা হয়েছে, যার বেশিরভাগই ছিল জলপাই গাছ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পশ্চিম তীরজুড়ে প্রায় ৯০০ সামরিক চেকপোস্ট ও গেট স্থাপন করে ফিলিস্তিনিদের চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইসরায়েল।
অন্যদিকে গাজায় ইসরায়েলের হামলায় ১ লাখ ২ হাজারের বেশি ভবন পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে এবং ৩ লাখ ৩০ হাজারের বেশি আবাসন ইউনিট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এ ছাড়া আহত হয়েছে আরও ১ লাখ ৭২ হাজারের বেশি মানুষ।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর