মালদ্বীপে সাগরের তলদেশে মৃত্যুবরণ করা ইতালীয় পর্যটকদের মরদেহ উদ্ধার করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক উদ্ধারকারী ডুবুরি। শনিবার (১৬ মে) এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে মালদ্বীপ সরকার।
বিবিসিকে এদিন সরকারের এক মুখপাত্র জানান, স্টাফ সার্জেন্ট মোহাম্মদ মাহদীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
গত বৃহস্পতিবার সকালে মালদ্বীপের বাভু প্রবাল দ্বীপপুঞ্জের আলিমাথা দ্বীপের অদূরে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫০-৬০ মিটার গভীরে এক সামুদ্রিক গুহায় আটকা পড়েন পাঁচ অভিজ্ঞ ইতালীয় ডুবুরি।
এই পাঁচজন হলেন জেনোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামুদ্রিক জীববিদ্যার অধ্যাপক মনিকা মন্তেফালকোন (৫১) ও তার মেয়ে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্রী জর্জিয়া সোম্মাকাল (২৩)।
এছাড়া সমুদ্র গবেষক মুরিয়েল ওদেনিও, পরিবেশবিদ ফেদেরিকো গুয়ালতিয়েরি এবং মালদ্বীপে গত সাত বছর ধরে কর্মরত ডাইভিং ইনস্ট্রাক্টর জিয়ানলুকা বেনেদেত্তি এই দলে ছিলেন।
এই পাঁচ ডুবুরি ডিউক অব ইয়র্ক নামে একটি নৌকায় করে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফিরে না আসায় ডাইভিং জাহাজের ক্রুরা বিপদ সংকেত দেন এবং উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়।
দুর্ঘটনার দিন একজনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬০ মিটার (১৯৭ ফুট) গভীরের একটি গুহা থেকে ওই মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বাকি চারজনের মরদেহ দুদিন পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। উল্টো উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া ডুবুরির মৃত্যুসংবাদ এলো।
পরিস্থিতি বিবেচনায় মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু শনিবার উদ্ধার অভিযান সশরীরে পর্যবেক্ষণ করতে বাভু প্রবাল দ্বীপপুঞ্জের আলিমাথা দ্বীপে যান।
মালদ্বীপ সরকারের মুখপাত্র মোহাম্মদ হোসেইন শরিফ বিবিসিকে বলেন, ‘আজ (শনিবার) আটজন উদ্ধারকারী ডুবুরি সাগরে নেমেছিলেন। তারা একপর্যায়ে ওপরে ভেসে উঠলেও মাহদী পানির নিচেই রয়ে যান। বুঝতে পেরে অন্য ডুবুরিরা তাৎক্ষণিকভাবে আবারও পানিতে নামেন এবং মাহদীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন।’
শরিফ জানান, সাধারণ পর্যটকদের জন্য কেবল ৩০ মিটার গভীর পর্যন্ত ডাইভিংয়ের অনুমতি রয়েছে। ওই ইতালীয় নাগরিকেরা কেন ৬০ মিটার গভীরের গুহায় প্রবেশ করেছিলেন, তা স্পষ্ট নয়।
এদিকে তদন্তকারী কর্মকর্তারা দুর্ঘটনার পেছনে মূলত দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রথমত, ডাইভিং সিলিন্ডারে গ্যাসের মিশ্রণে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাধারণত ৪০ মিটারের বেশি গভীরে গেলে নাইট্রোজেন গ্যাস মানুষের স্নায়ুকে অবশ করে ফেলে, যার ফলে ডুবুরিরা দিকভ্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে পারেন।
দ্বিতীয়ত, প্রায় ২৬০ মিটার দীর্ঘ ওই অন্ধকার গুহার ভেতরে ডুবুরিরা দিক হারিয়ে ফেলেছিলেন কি না, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।