সহজ সরল মানুষ কষ্ট করবে, মারা যাবে, দেশের স্বাধীনতা এজন্য হয় নাই, চব্বিশ এজন্য হয় নাই—বলে মন্তব্য করেছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসিনুর রহমান।
‘মুনিয়ার খুনি, রাষ্ট্রের ভেতরে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকারী ভূমিদস্যু বসুন্ধরা গ্রুপের মিডিয়ার হলুদ সাংবাদিকতা এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও আইনজীবী ব্যারিস্টার সারোয়ারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ’ লেখা সংবলিত ব্যানার নিয়ে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এ কথা বলেন তিনি। শনিবার (১৬ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের বটতলায় অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনী অধিকার পরিষদ বাংলাদেশ এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।
মানববন্ধনে হাসিনুর রহমান বলেন, ‘কোনো প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড কাম্য নয়। আমরা সহজ সরল মানুষ যারা আছি, এসব কাজ আমরা করি না। যারা অনৈতিক কর্মকাণ্ড করেছে, টাকা-পয়সা বানিয়েছে, তাদের এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিচার হতে হবে। এখন শাসকের কাছে আমরা বন্দি নই। চব্বিশের পরে এসব আর হবে না। রাজপথে তাদের বিচার হবে, জনগণ তাদের বিচার করবে। শাহ আলম (বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান) এসব দুর্নীতিবাজ, অনৈতিক কর্মকাণ্ড করেছে, তাদের বিচার হবে। শাহ আলমের কাছে আমরা জিম্মি না। কারো কাছে আমরা জিম্মি নই।’
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তারা মানববন্ধন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেবেন বলেও জানিয়েছেন হাসিনুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘শাহ আলমের বসুন্ধরা গ্রুপের পত্রিকায় ব্যারিস্টার সারোয়ারের বিরুদ্ধে অনৈতিক, মিথ্যা, বানোয়াট গল্প ছাপানো হয়েছে, এটি দুঃজনক। শেখ হাসিনার অন্যতম সহযোগী ছিলেন এই শাহ আলম। ফারজানা রুপা, মোজাম্মেল বাবু গ্রেপ্তার হতে পারলে বসুন্ধরার শাহ আলমকে গ্রেপ্তারে সরকারের কী সমস্যা। বাংলাদেশের ভেতরে আরেকটা বাংলাদেশ বানিয়েছে এই শাহ আলম। শাহ আলমের বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত হবে না। এক দেশে কি দুই নিয়ম চলে? তিনি বলেন, সৈনিক ভাইয়েরা আছেন তাদের অনুরোধ করব, ওই চাকরি করার দরকার নেই। এই মাফিয়াদের জুতাপেটা করে বেরিয়ে চলে আসেন। বলেন, লুটপাট করে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে গেছেন। আমাদের মেয়ে খুন হবে, তার বিচার হবে না—তা হতে পারে না। জনগণের সামনে প্রকাশ্যে তাদের বিচার হতে হবে।’
এ সময় বসুন্ধরা গ্রুপের মালিক শাহ আলম ও তার ছেলেরা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত বলে দাবি করে, এর বিচারের জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত এই সেনা কর্মকর্তা।
মানববন্ধনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক সেনা কর্মকর্তা ব্যারিস্টার সারোয়ার বলেন, ‘আজ ছোট পরিষরে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে। এই আন্দোলন চলতে থাকবে। এই বসুন্ধরা গ্রুপ সাব্বির নামে এক লোককে হত্যা করে তার মামলা খেয়ে ফেলেছে। এরপর আনভীর নামে আরেকটা ধর্ষক ছেলে মুনিয়াকে দুই বছর ঘরের বউয়ের মতো ব্যবহার করেছে। এই মেয়েটা অন্তঃসত্ত্বা ছিল। তার সন্তান যেন ভূমিষ্ঠ হতে না পারে, সেজন্য তাকে হত্যা করেছে। পুলিশি রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছে, ওই বাসায় আনভীর ব্যতিত আর কারও যাওয়ার সুযোগ ছিল না। এই মুনিয়ার খুনের আইনজীবী আমি। আমি কেন আইনজীবী হলাম, কেন এই হত্যাকাণ্ডের বিপক্ষে দাঁড়ালাম, এজন্য তাদের রোষানলে আমি পড়েছি। ইতোপূর্বে আমার, আমার পরিবারের এবং শিশুদের ছবি ব্যবহার করে অবমাননাকর সংবাদ তারা প্রচার করেছে। তার বিরুদ্ধে আমি মামলা করেছি, এই মামলা এখন চলমান। যখন বিষয়টি সামনে আসে তখন বসুন্ধরা গ্রুপের মিডিয়াগুলো আমাকে নিয়ে অবমাননাকর সংবাদ প্রচার করে। তারই ধারাবাহিকতায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে বসুন্ধরা গ্রুপ।’
তিনি আরও বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপ তাদের বাংলাদেশ প্রতিদিন, কালের কণ্ঠ, ডেইলি সান এবং নিউজ টোয়েন্টিফোর—এসব মিডিয়া ব্যবহার করে তাদের ভূমি দস্যুতা, খুন-খারাবি চালু রাখতে চায়। তার ছেলেরা হত্যা- ধর্ষণ করবে, কিন্তু কেউ কোনো আইনের আশ্রয় নিতে পারবে না, এভাবে কি দেশ চলতে পারে?’
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন মেজর (অব.) হারুনুর রশিদ, ল্যান্স কর্পোরাল (অব.) মঞ্জুর আলম, ক্যাপ্টেন (অব.) দুলাল প্রমুখ।
মানববন্দনে বক্তারা সাবেক সেনা কর্মকর্তা ব্যারিস্টার সারোয়ারে বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং তা না হলে বসুন্ধরা গ্রুপের সব পণ্য, সংবাদপত্র বর্জনের হুঁশিয়ারি দেন। এছাড়াও প্রয়োজনবোধে বসুন্ধরা অভিমুখে লংমার্চ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা। মানববন্ধন শেষে বসুন্ধরা গ্রুপের পত্রিকা বাংলাদেশ প্রতিদিন ও কালের কণ্ঠ প্রতীকীভাবে পুড়িয়ে বয়কটের ঘোষণাও দেওয়া হয়।