সেন্ট্রাল লন্ডনে নাকবা দিবসের ৭৮তম বার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার (১৬ মে) আয়োজিত মিছিলে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ সমবেত হন। একই সময়ে কট্টর ডানপন্থী কর্মী টমি রবিনসনের নেতৃত্বে পৃথক আরেকটি সমাবেশ হয়।
আয়োজকদের বরাতে রোববার এ তথ্য জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই।
দুটি কর্মসূচি ঘিরে শনিবার চার হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন করে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ। তারা এটিকে ‘নজিরবিহীন’ জননিরাপত্তা রক্ষা কার্যক্রম হিসেবে অভিহিত করেছে।
কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা ঠিক কোন পক্ষের সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন, তা নির্দিষ্ট করে জানায়নি পুলিশ।
১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিজেদের মাতৃভূমি থেকে সাড়ে সাত লাখের বেশি ফিলিস্তিনিকে ইসরায়েলি সশস্ত্র বাহিনী উৎখাত এবং ১৩ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যার ঘটনাকে স্মরণ করে প্রতি বছর ১৫ মে নাকবা (মহাবিপর্যয়) দিবস পালিত হয়।
প্যালেস্টাইন সলিডারিটি ক্যাম্পেইনসহ কয়েকটি সংগঠনের উদ্যোগে প্রতি বছর লন্ডনে এই বার্ষিক বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়।
অন্যদিকে কট্টর ডানপন্থী নেতা টমি রবিনসনের ‘ইউনাইট দ্য কিংডম’ নামের সমাবেশটিকে ‘ঐক্য, সচেতনতা ও যৌথ দায়িত্বের ওপর আলোকপাতকারী গণসমাবেশ’ হিসেবে প্রচার করা হয়।
এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ‘ইউনাইট দ্য কিংডমের’ একটি সমাবেশে উগ্র ডানপন্থী বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছিল এবং মুসলমানবিরোধী স্লোগান দিয়েছিল, যার ফলে সেসময় ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ বছর পুলিশের কঠোর নজরদারিতে দুটি সমাবেশের জন্য ভিন্ন রুট নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। এর ফলে কেনসিংটন থেকে পল মল পর্যন্ত কেফিয়াহ (ফিলিস্তিনিদের ঐতিহ্যবাহী রুমাল) ও ফিলিস্তিনি পতাকা জড়িয়ে মিছিল করা লাখো মানুষের ভিড়ে কট্টর ডানপন্থী বিক্ষোভকারীদের খুব একটা দেখা যায়নি।
শনিবার নাকবা ৭৮ মার্চের আয়োজকেরা অংশগ্রহণকারীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, তারা যেন কট্টর ডানপন্থী বিক্ষোভকারীদের কোনো উসকানিতে পা না দেন বা তাদের সঙ্গে কোনো তর্কে না জড়ান।
এদিন সমাবেশে বক্তব্য দেন ইউর পার্টির সংসদ সদস্য জারা সুলতানা ও জেরেমি করবিন, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডায়ান অ্যাবট এবং লেবার পার্টির সংসদ সদস্য জন ম্যাকডোনেল।
ম্যাকডোনেল মিডল ইস্ট আইকে বলেন, নাকবা দিবসের এই মিছিল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গাজায় গণহত্যা এখনও চলছে। একই সঙ্গে লন্ডনে কট্টর ডানপন্থীরাও মিছিল করছে।
‘আমাদের এখন যা করতে হবে তা হলো, সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ক্রমাগত চাপ দিয়ে যাওয়া। কারণ আমাদের সরকার এখনও ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ করছে এবং দেশটির ওপর কার্যকর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে,’ যোগ করেন ম্যাকডোনেল।
মিছিলে অংশগ্রহণকারী গাজা থেকে আসা ফিলিস্তিনি শরণার্থী ও অধিকারকর্মী হালা হানিনা মিডল ইস্ট আইকে বলেন, ‘নাকবা এখনো শেষ হয়ে যায়নি, এটি চলমান।’
২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলের গণহত্যা শুরু হওয়ার কয়েক দিন আগে গাজা থেকে পালিয়ে আসেন হানিনা। তার পরিবার ১৯৪৮ সালে নাকবা দিবসে বাস্তুচ্যুত হয়েছিল।
হানিনা বলেন, ‘গাজা এখন প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে পশ্চিম তীরের পরিস্থিতিও অত্যন্ত নাজুক। আমাদের পরিবারের সদস্যরা এখনও প্রতিদিন সেখানে মারা যাচ্ছেন। এই কারণে আমাদের এই প্রতিবাদী মিছিল চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’