ফিলিস্তিনের গাজা অভিমুখী একটি মানবিক ত্রাণবহরে থাকা অধিকারকর্মীদের সঙ্গে ‘অগ্রহণযোগ্য আচরণের’ ঘটনায় ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের ফ্রান্সে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো শনিবার (২৩ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামের ত্রাণবহরে অংশ নেওয়া ফরাসি ও ইউরোপীয় নাগরিকদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া কিছু অপ্রীতিকর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বারো লেখেন, ‘ফ্রান্স কখনোই তার নাগরিকদের হুমকি দেওয়া, ভয় দেখানো বা তাদের ওপর নির্যাতন বরদাশত করবে না; বিশেষ করে তা যদি কোনো দায়িত্বরত মন্ত্রীর পক্ষ থেকে হয়।’
তিনি বলেন, ‘আমি লক্ষ্য করেছি, ইসরায়েল সরকার ও দেশটির রাজনৈতিক মহলের অনেকে এই আচরণের নিন্দা জানিয়েছে। ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে তার (বেন-গভিরের) উসকানিমূলক, বিদ্বেষী ও সহিংস বক্তব্য এবং কর্মকাণ্ডের যে দীর্ঘ তালিকা রয়েছে, এ তারই ধারাবাহিকতা।’
‘আমার ইতালীয় সহকর্মীর মতো আমিও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন ইতামার বেন-গভিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে,’ যোগ করেন ফরাসি মন্ত্রী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার পর এই কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিল ফ্রান্স।
ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের অন্যতম প্রধান অংশীদার বেন-গভির আটক হওয়া অধিকারকর্মীদের মাঝখান দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। তাদের হাত পেছনে বাঁধা। গাদাগাদি করে হাঁটু গেড়ে বসে আছেন তারা।
ফুটেজে বেন-গভিরকে ইসরায়েলের পতাকা ওড়াতে এবং আটক হওয়া অধিকারকর্মীদের উপহাস করতে দেখা যায়।
এর আগে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাসের কাছে অনুরোধ জানান, ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আগামী বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে যেন বেন-গভিরের ওপর সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
একইভাবে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তার কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।
সেখানে তিনি ত্রাণবহরে থাকা ইইউ নাগরিকদের সঙ্গে ইসরায়েলের আচরণের বিষয়টি নিয়ে আসন্ন ইইউ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক আলোচনার অনুরোধ জানান।
গাজার ওপর ইসরায়েলের জারি করা অবরোধ ভাঙার লক্ষ্যে গত বৃহস্পতিবার তুরস্কের মারমারিস বন্দর থেকে ৪৪টি দেশের ৪২৮ জন আরোহী নিয়ে এই ত্রাণবহরটি রওনা হয়েছিল।