ইউক্রেনে নতুন করে রাশিয়ার বিমান হামলার ‘হুমকি’ ঘিরে ইউরোপজুড়ে চলছে কূটনৈতিক উত্তেজনা। রাশিয়ার সতর্কবার্তার পর রুশ কূটনীতিকদের তলব করেছে জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। মস্কোর ‘হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র’ ব্যবহারের দাবি ও বিদেশিদের শহর ছাড়ার আহ্বান পরিস্থিতিকে করে তুলছে আরও সংঘাতমুখী।
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে নতুন করে বড় ধরনের হামলার ইঙ্গিত দেয়ার পর ইউরোপীয় কূটনৈতিক মহলে চলছে তীব্র প্রতিক্রিয়ার ঝড়। রাশিয়ার পক্ষ থেকে বিদেশি নাগরিক ও কূটনীতিকদের কিয়েভ ছাড়ার আহ্বানের পর জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন রুশ কূটনীতিকদের তলব করে।
ইইউ মুখপাত্র আনিত্তা হিপ্পার এই হুমকিকে ‘অগ্রহণযোগ্য উত্তেজনা বৃদ্ধি’ বলে উল্লেখ করে মস্কোকে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা বন্ধের আহ্বান জানান।
এর আগে মস্কো জানায়, সপ্তাহান্তে ইউক্রেনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে কিয়েভে নতুন হামলার পরিকল্পনা রয়েছে।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, কিয়েভের সামরিক-শিল্প স্থাপনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ কেন্দ্রগুলো এখন নিয়মিত লক্ষ্যবস্তু হবে। একই সঙ্গে বিদেশি নাগরিক ও কূটনৈতিক মিশনগুলোকে দ্রুত শহর ছাড়ার আহ্বান জানানো হয়।
জবাবে জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও নরওয়ে কূটনীতিকদের তলব করে জানায়, মস্কোর এই অবস্থান হুমকি ও উত্তেজনা বাড়ানোর সমান। জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ভয় নয় বরং ইউক্রেনকে পূর্ণ সমর্থন অব্যাহত রাখবে তারা। একই সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানায় জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এদিকে জাতিসংঘে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত আন্দ্রি মেলনিক রাশিয়ার পদক্ষেপকে ‘নতুন ও ভয়াবহ আগ্রাসন’ হিসেবে আখ্যা দেন।
অন্যদিকে কিয়েভে সামরিক ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস অবিলম্বে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানান। একইসঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, আলোচনায় অচলাবস্থা থাকলেও ওয়াশিংটন মধ্যস্থতার জন্য প্রস্তুত।