শুক্রবার (৫ জুন) ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে একটি অত্যন্ত সক্রিয় আগ্নেয়গিরিতে বেশ কয়েকবার অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে আকাশে বিশাল ছাইয়ের মেঘ তৈরি হওয়ায় একটি স্থানীয় বিমানবন্দর বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
দেশটির জাতীয় আগ্নেয়গিরি সংস্থার এক বিবৃতিতে বলা হয়, ফ্লোরেস দ্বীপের মাউন্ট লেওতোবি লাকি-লাকি আগ্নেয়গিরিটিতে স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। এ সময় আগ্নেয়গিরিটি থেকে নির্গত উপাদান আকাশে প্রায় আড়াই কিলোমিটার (১.৬ মাইল) উঁচুতে ছড়িয়ে পড়ে। বার্তা সংস্থা এএফপি-এর এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়।
শুক্রবার ভোরের দিকে আরও কয়েক দফা অগ্ন্যুৎপাতের পর সর্বশেষ এই ঘটনা ঘটল। লেওতোবি লাকি-লাকি আগ্নেয়গিরির এই তৎপরতার কারণে ইন্দোনেশিয়ার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা জারি রয়েছে। এর জ্বালামুখের চারপাশে পাঁচ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আগ্নেয়গিরি সংস্থা জানায়, ভারী বৃষ্টি হলে নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের ‘লাহার’ বা আগ্নেয়গিরির বিপজ্জনক কাদার ঢল সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।
বিমানবন্দরের প্রধান পারতাহিয়ান পাঞ্জাইতান জানান, লেওতোবি লাকি-লাকি থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে মাউমেরে শহরের একটি স্থানীয় বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ। ফলে পাঁচটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
ইন্দোনেশীয় ভাষায় ‘লাকি-লাকি’ শব্দের অর্থ ‘পুরুষ’। এক হাজার ৫৮৪ মিটার (পাঁচ হাজার ১৯৭ ফুট) উচ্চতার এই আগ্নেয়গিরিটির পাশে এক হাজার ৭০৩ মিটারের আরেকটি শান্ত আগ্নেয়গিরি রয়েছে। ইন্দোনেশীয় ভাষায় ‘নারী’ শব্দের অর্থ অনুসারে সেটির নাম রাখা হয়েছে ‘পেরেম্পুয়ান’।
এর আগে, গত বছরের জুলাই মাসে লেওতোবি লাকি-লাকি থেকে ১৮ কিলোমিটার উঁচুতে বিশাল ছাইয়ের মেঘ ছড়িয়ে পড়েছিল। তখন পর্যটন দ্বীপ বালির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২৪টি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছিল।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থানের কারণে বিশাল দ্বীপরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে।