আফগানিস্তানে পাকিস্তান নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে কাবুল। আফগান কর্তৃপক্ষের দাবি, মঙ্গলবার (৯ জুন) রাতের এই হামলায় কমপক্ষে ১৩ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু। এ ছাড়া হামলায় আহত হয়েছেন আরও ১৪ জন।
মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় এই ঘটনা ঘটল।
বুধবার সকালে আফগানিস্তানের তালেবান প্রশাসনের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, দেশটির খোস্ত, কুনার ও পাকতিকা প্রদেশে এই হামলা চালানো হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মুজাহিদ বলেন, ‘গতকাল রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আবারও আফগানিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে এবং কুনার, খোস্ত ও পাকতিকা প্রদেশে বেসামরিক নাগরিকদের বাড়িঘরে বোমাবর্ষণ করেছে।
‘এতে ১১টি শিশু, একজন নারী এবং একজন বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া নারী ও শিশুসহ আরও ১৪ জন আহত হয়েছেন। আমরা এই অপরাধ ও আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানাই।’
তবে এই হামলার বিষয়ে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।
গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে পাকিস্তানের বিমান হামলার জবাবে আফগানিস্তান পাল্টা আঘাত হানার পর থেকে প্রতিবেশী দেশ দুটির সীমান্তে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।
দীর্ঘদিনের এই সংঘাতে এরই মধ্যে শত শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। মাঝে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে লড়াই বন্ধ হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে কাবুলের বিরুদ্ধে তাদের মাটিতে জঙ্গিদের, বিশেষ করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে (টিটিপি) আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে।
পাকিস্তানের অভিযোগ, এই জঙ্গিরা দেশটির ভেতরে বিভিন্ন সময়ে হামলা চালাচ্ছে।
টিটিপি আফগান তালেবানের চেয়ে আলাদা হলেও আদর্শগতভাবে তাদের মিত্র। ২০২১ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের পর আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসে আফগান তালেবান।
পাকিস্তানের ওই অভিযোগ অবশ্য বরাবরই অস্বীকার করে আসছে আফগানিস্তান।