সিরিয়া নিজেকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তার ‘গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক কেন্দ্র’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। এ লক্ষ্যে দেশটি বহুজাতিক জ্বালানি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তুলছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-বশির।
মঙ্গলবার (৯ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত আটলান্টিক কাউন্সিল গ্লোবাল এনার্জি ফোরামে তিনি এ কথা জানান।
আল-বশির বলেন, ‘আমরা এই সময়টিকে কেবল যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার পর্যায় হিসেবে দেখছি না; বরং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তায় সক্রিয় অংশীদার এবং গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে সিরিয়ার অবস্থানকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার সুযোগ হিসেবে দেখছি।’
১৪ বছরের গৃহযুদ্ধে সিরিয়ার জ্বালানি খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশটি এখন ‘পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক উন্মুক্ততা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব জোরদার করার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে’।
তুরস্কের আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, অনুষ্ঠানে আল-বশির জানান, সিরিয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে জ্বালানি খাতকে ‘প্রধান প্রবেশদ্বার’ হিসেবে বেছে নিয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত কয়েক মাসে শেভরন, কনোকোফিলিপস, এইচকেএন এনার্জি, জিই, টোটালএনার্জি, সিমন্স এবং আনসালদোর মতো বৈশ্বিক জ্বালানি জায়ান্টদের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তুলেছে।
পাশাপাশি ইতালি ও ইউরোপের অন্যান্য কোম্পানির সঙ্গেও তাদের আলোচনা অগ্রসর পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান এই মন্ত্রী।
এছাড়া কাতারের ইউসিসি হোল্ডিং ও তাদের সহযোগীদের সঙ্গে বিদ্যুৎ, অবকাঠামো ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ৭০০ কোটি ডলারের একটি বিনিয়োগ চুক্তি সইয়ের কথা ঘোষণা করেন জ্বালানিমন্ত্রী।
এর বাইরে তুর্কি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে অতিরিক্ত অংশীদারত্বের কথা জানান তিনি।
এসময় বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানিয়ে আল-বশির বলেন, দায়িত্বশীল বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারত্বের জন্য সিরিয়ার দরজা উন্মুক্ত।
২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বে সিরিয়ার যোদ্ধারা বাশার আল-আসাদ সরকারকে উৎখাত করে। এর মধ্য দিয়ে বাশারের দুই দশকেরও বেশি সময়ের শাসনের অবসান ঘটে।
পরে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট আল-শারার নেতৃত্বে দেশটিতে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সিরিয়া বর্তমানে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাজ্য এরই মধ্যে সিরিয়ার ওপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে, যার মধ্যে দেশটির জ্বালানি খাত অন্তর্ভুক্ত।