ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছানোর ইঙ্গিতের মধ্যেই ইরানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন দেশটির অবরুদ্ধ সম্পদের একটি অংশ ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছে।
যদিও এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন এমন কোনো সমঝোতার কথা অস্বীকার করেছিল।
শনিবার (১৩ জুন) ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, ‘ট্রাম্প ইরানের জব্দ থাকা সম্পদের একটি অংশ ছেড়ে দিতে সম্মত হয়েছেন। তবে তিনি তা প্রকাশ্যে ঘোষণা করতে চান না।’
চুক্তির প্রস্তাবে কী কী থাকছে, তা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে পরস্পরবিরোধী খবর আসার পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স একে ‘সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে ভুয়া তথ্য’ হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন, ইরান যদি তার প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করে, তাহলেই দেশটি অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে।
এদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ভ্যান্স বলেন, ‘ইরানিরা কোনো নগদ অর্থ পাচ্ছে না। কেবল কোনো চুক্তিতে স্বাক্ষর করা বা বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য কোনো তহবিলও মুক্ত করা হচ্ছে না।’
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গে ১২ বিলিয়ন ডলার জব্দ অর্থ ছাড়ের দাবি ইরান জানিয়েছে, এমনটা শোনা যাচ্ছে।
পরবর্তী ধাপে আরও ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড় চায় দেশটি।
মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, এই মুহূর্তে কোনো তহবিল মুক্ত করা হলে তা ইরানের শাসকগোষ্ঠীর ওপর চাপ বজায় রাখার বড় হাতিয়ার হাতছাড়া করার শামিল হতে পারে।
ট্রাম্প চাইছেন, সম্ভাব্য যেকোনো চুক্তি ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির চেয়ে যেন অনেক বেশি কঠোর ও শক্তিশালী হয়।
একই সঙ্গে তিনি এমন কোনো পদক্ষেপ এড়াতে চান, যা ‘নগদ অর্থের পাহাড় হস্তান্তর’ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
চলতি মাসের শুরুতে সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খামেনির সামরিক উপদেষ্টা রেজায়ি বলেছিলেন, ‘তিনি (ট্রাম্প) যদি ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চান, তাহলে এই ২৪ বিলিয়ন ডলার হলো ট্রাম্পের প্রতি ইরানের আস্থার একটি পরীক্ষা।
‘এটি এমন এক পরীক্ষা, যাতে আমেরিকাকে উত্তীর্ণ হতে হবে। তাহলেই পথ খুলে যাবে। এটি আমাদের অর্থ, আমেরিকার নয়।’