যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিয়াটলে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর শেষ বাঁশি বাজার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানি ফুটবল দলকে দেশ ছাড়তে হবে।
ইরানের প্রথম ম্যাচের পর লস অ্যাঞ্জেলেসে তাদের অবস্থান ও ভিসা নিয়ে তীব্র সমালোচনার জেরে মঙ্গলবার (১৬ জুন) এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
হোয়াইট হাউস ফিফা টাস্ক ফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি এপিকে বলেন, ‘আমরা বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছিলাম যে, প্রক্রিয়াটি এমনই হবে।’
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিশ্বকাপে দলটির অংশগ্রহণ নিয়ে কয়েক মাসের অনিশ্চয়তার পর গত সোমবার লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে প্রথম ম্যাচে ড্র করে টিম মেল্লি (ইরান জাতীয় দল)।
ম্যাচ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে ইরানি দলকে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করে মেক্সিকোতে তাদের ক্যাম্পে ফিরে যেতে হয়।
এর প্রতিক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ইরানি দলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আচরণের তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। কারণ ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়দের ক্লান্তি কাটিয়ে ওঠার জন্য একদিনও সময় দেওয়া হয়নি।
ইরানের ফুটবল দলের কোচ আমির গ্যালেনোই বলেন, ম্যাচ শেষের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তার দলকে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে মেক্সিকোতে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। উদ্বোধনী ম্যাচের পর খেলোয়াড়দের স্বাভাবিক রিকভারি প্রক্রিয়া যেন বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য তারা লস অ্যাঞ্জেলেসেই রাত কাটানোর আশা করেছিলেন।
প্রথম ম্যাচের পর ইরানের উইঙ্গার মেহেদি তোরাবির এন্ট্রি ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রকে আরও তোপের মুখে পড়তে হয়।
তবে দলের কর্মকর্তারা মঙ্গলবার বিকেলে নিশ্চিত করেছেন, তারা তোরাবির জন্য নতুন মাল্টিপল-এন্ট্রি (একাধিকবার প্রবেশের) ভিসা নিশ্চিত করতে পেরেছেন, যা তাকে পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের অনুমতি দেবে।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, ‘এ সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। বিষয়টি আমাদের নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা কাজ শুরু করি, যাতে ওই খেলোয়াড় প্রতিটি ম্যাচে অংশ নিতে পারেন।’
সোমবার রাতে সিবিএস নিউজে সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে হোয়াইট হাউস ফিফা টাস্ক ফোর্সের নির্বাহী পরিচালক জুলিয়ানি বলেন, ইরানি দলের কিছু সহকারী স্টাফ ও কর্মকর্তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে সব খেলোয়াড় ও কোচ ভিসা পেয়েছেন।
ইরানের দলের যুক্তরাষ্ট্রে আসার শর্তাবলিও এসময় তুলে ধরেন তিনি।
জুলিয়ানি বলেন, ‘ম্যাচের আগের দিন দলটিকে যুক্তরাষ্ট্রে আসার অনুমতি দেওয়া হবে। আর ম্যাচ শেষ হওয়ার দিন অর্থাৎ ম্যাচের রাতেই তাদের চলে যেতে বলা হবে। লস অ্যাঞ্জেলেস এবং সিয়াটল উভয় জায়গাতেই তাদের এই নিয়ম মেনে চলতে হবে।’
ইরানের কয়েকজন সহকারী স্টাফ ও কর্মকর্তাকে কেন প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়নি, এ প্রশ্নের জবাবে জুলিয়ানি বিস্তারিত বলতে অস্বীকৃতি জানান।
তবে তিনি ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত ব্যক্তিদের প্রবেশাধিকার না দেওয়ার বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আগের মন্তব্যের সূত্র উল্লেখ করেন।
জুলিয়ানি বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, আইআরজিসির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, এমন কেউ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে না। বিশ্বকাপের অজুহাতেও তাদের আসতে দেওয়া হবে না। তাই আমার মনে হয় কারণটা খুবই স্পষ্ট।’
ইরান দলের অধিনায়ক মেহেদি তারেমি জানান, গত রোববার তিজুয়ানা থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসে সংক্ষিপ্ত যাতায়াতের পথটুকু নিরাপত্তা তল্লাশির কারণে পাড়ি দিতে তাদের পাঁচ ঘণ্টা ধকল পোহাতে হয়।
তারেমি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এই বিষয়ে ফিফার আমাদের আরও বেশি সহায়তা করা উচিত।’