যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ। স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেল ৪টা থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।’ তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের সহায়তায় এ সমঝোতায় পৌঁছেছেন।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘দিনের শুরুতে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটলেও বর্তমানে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতির অবস্থায় রয়েছে।’
এর কিছুক্ষণ পর ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) যুদ্ধবিরতি কার্যকরের বিষয়টি নিশ্চিত করে। আইডিএফের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফরিন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা এখন যুদ্ধবিরতির মধ্যে রয়েছি। তবে প্রয়োজন হলে পুনরায় লড়াই চালিয়ে যেতে আইডিএফ সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।’
তবে যুদ্ধবিরতির শর্তাবলি, মেয়াদ কিংবা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে।
এর আগে, শুক্রবার লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যরাত থেকে বিকেল পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত ও আরও ৯৭ জন আহত হয়েছেন।
মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিভিন্ন এলাকায় চালানো হামলায় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে। তবে নিহতদের পরিচয় কিংবা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, তারা পূর্ব লেবাননের বেকা উপত্যকায় হিজবুল্লাহর দুটি কমান্ড সেন্টারে হামলা চালিয়েছে। হামলার পরপরই উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আগে সংঘটিত এসব হামলা সাম্প্রতিক সংঘাতের অন্যতম প্রাণঘাতী ঘটনা। ফলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পরিস্থিতি কতটা স্থিতিশীল থাকবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, এর একদিন আগে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তির অংশ হিসেবে লেবাননে স্থায়ীভাবে সংঘাত বন্ধের বিষয়টিও আলোচনায় ছিল বলে কূটনীতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।