যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত নেই বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে গতকাল মঙ্গলবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান বলে ইরানি সংবাদমাধ্যম আইআরআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়।
পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে সমঝোতা স্মারকে কোনো আলোচনা হয়নি। ভবিষ্যতেও কখনো হবে না।’
এসময় ইরানের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় প্রতিরক্ষার স্বার্থে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন ইরানি প্রেসিডেন্ট।
তিনি বলেন, ‘নিজেদের সুরক্ষায় আমাদের কাছে যদি এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো না থাকত, তাহলে এতদিনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ধ্বংস করে দিত।’
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও আঞ্চলিক ভূরাজনীতি নিয়ে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে বর্তমানে ইসলামাবাদ সফর করছেন পেজেশকিয়ান।
এদিকে গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সই করা সমঝোতা স্মারকের আনুষ্ঠানিক নথি প্রকাশ করা হয়েছে।
এই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা, ইরানের ওপর আরোপিত আর্থিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং দেশটির পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যতে কারিগরি আলোচনার রূপরেখা তৈরি করা।
প্রকাশিত এই নথিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা সামগ্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সীমিত করার বিষয়ে কোনো শর্তের উল্লেখ নেই।
অস্ত্র সংক্রান্ত একমাত্র সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞাটি হলো ইরান কোনোভাবেই ‘পারমাণবিক অস্ত্র সংগ্রহ বা তৈরি করতে পারবে না’।
শুরুর দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে সীমিত করার বিষয়টিকে সামরিক অভিযানের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করলেও সাম্প্রতিক কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে তার এই অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে।
গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘ক্ষেপণাস্ত্র কোনো সমস্যা নয়।’