ওয়াশিংটন ডিসিতে গত এপ্রিলে লেবাননের সঙ্গে প্রথম আলোচনার সময় ইসরায়েলের ধারণা ছিল, যুদ্ধে ইরান অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর ইসরায়েলের ভেতরে এমন জোরালো ধারণা তৈরি হয়েছে, এই চুক্তি হিজবুল্লাহকে চাঙা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত লেবানন-ইসরায়েলের পঞ্চম দফার আলোচনাকে ‘ভয়াবহ ব্যর্থ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
তিনি বলেন, শুরুর দিকে এই আলোচনা যৌথ লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল; যার উদ্দেশ্য ছিল, লেবানন থেকে ইরানের প্রভাব সম্পূর্ণ দূর করা, দেশটির সঙ্গে স্থায়ী শান্তি চুক্তি করা এবং হিজবুল্লাহর নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া।
এখন ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত মনে করেন, পরিস্থিতি আর সেদিকে যাচ্ছে না।
ইসরায়েলিরা এখন একটি বিষয়েই সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে। দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর কারণে জনবসতিগুলো যতদিন ঝুঁকিতে থাকবে, ততদিন তারা তথাকথিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ ছেড়ে যাবে না।
একই সঙ্গে তারা চায়, লেবানন সরকার ও দেশটির সেনাবাহিনী ওই অঞ্চলের দায়িত্ব নিজেদের হাতে তুলে নিক এবং হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র করুক।
বর্তমানে হিজবুল্লাহর ওপর হামলা বন্ধ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে তীব্র চাপের মুখে রয়েছে ইসরায়েল।
দেশটি এখন মনে করছে, তাদের হাত আসলে বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তাদের সামরিক তৎপরতা কেবল আত্মরক্ষামূলক অভিযানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে ফেলা হয়েছে।
আর এই কারণেই ইসরায়েলের অভ্যন্তরে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
দক্ষিণ লেবাননে কৌশলগত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থতার জন্য যেমন অনেকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করছেন, তেমনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্প্রতি সৃষ্টি হওয়া দূরত্বের জন্যও তাকেই দায়ী করা হচ্ছে।
নিদা ইব্রাহিম আল জাজিরার সংবাদিক
আল জাজিরা থেকে নেওয়া