ইরান যুদ্ধ বন্ধ করতে অথবা সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার আগে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নির্দেশ দিয়ে একটি বিল পাস করেছে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত মার্কিন সিনেট।
গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই ভোটাভুটিতে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটরও যোগ দিলে প্রস্তাবটি ৫০-৪৮ ভোটে পাস হয়।
চলতি মাসের শুরুর দিকে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদেও একই বিল পাস হয়েছিল।
তবে এই প্রস্তাবটি মূলত প্রতীকী। কারণ কংগ্রেসের উভয় কক্ষে পাস হওয়ার পরও এটি প্রেসিডেন্টের কাছে তার বিবেচনার জন্য পাঠানো হবে না এবং এর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই বলে জানিয়েছে বিবিসি।
ইরানের সঙ্গে গত ১৭ জুন ট্রাম্পের সই করা সমঝোতা স্মারক নিয়ে খোদ রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্যদের মধ্যে যখন সংশয় তৈরি হয়েছে এবং অজনপ্রিয় ইরান যুদ্ধ যখন পঞ্চম মাসে পদার্পণ করতে যাচ্ছে, ঠিক তখনই এমন পদক্ষেপ নিল মার্কিন কংগ্রেস।
এদিকে এই প্রস্তাবের সমালোচনা করে একে ‘ভুল সময়ে নেওয়া অর্থহীন’ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন ট্রাম্প।
মঙ্গলবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘আমি যখন ইরানকে একেবারে কোণঠাসা করে ফেলেছি, যারা এখন পতনের মুখে, ঠিক তখনই মার্কিন সিনেট ভুল সময়ে নেওয়া অর্থহীন এক যুদ্ধক্ষমতা আইনের পক্ষে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।’
তিনি বলেন, ‘এই সিনেটররা আমার কাজটাকে আরও কঠিন করে তুললেন। তবে আমি যেকোনো উপায়েই হোক, কাজটা শেষ করব। কারণ আমি সবসময়ই সফল হই!’
১৯৭৩ সালে ওয়ার পাওয়ার্স রেজোল্যুশন বা যুদ্ধক্ষমতা আইন প্রণয়নের পর এই প্রথম মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষ কোনো প্রেসিডেন্টকে কোনো দেশে সামরিক অভিযান বন্ধের নির্দেশ দিয়ে একটি যৌথ প্রস্তাব পাস করল।
এই প্রস্তাব প্রেসিডেন্টের কাছে সইয়ের জন্য পাঠানো হয় না; বরং এর মাধ্যমে কোনো বিষয়ে কংগ্রেসের যৌথ মনোভাব বা ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক লরা ব্লুমেনফেল্ড এই পদক্ষেপকে ‘হাতে হাতকড়া পরানোর’ চেয়ে কেবলই ‘তিরস্কার’ হিসেবে দেখছেন, কারণ এর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই।
তবে বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকলেও এটি মার্কিন জনগণের সামগ্রিক মনোভাবের প্রতিফলন ঘটায়।’
তেল বা জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় ইরান যুদ্ধ সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের কাছে অত্যন্ত অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তাই এই যৌথ প্রস্তাব পাস হওয়ার গুরুত্ব অনেক। এটি ইরান যুদ্ধ বন্ধের পথ খুঁজতে হোয়াইট হাউসের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।
চলতি মাসের শুরুতে প্রতিনিধি পরিষদে যখন এই বিলটি পাস হয়, তখন চারজন রিপাবলিকান সদস্য সব ডেমোক্র্যাটের সঙ্গে সুর মিলিয়েছিলেন। সে কক্ষে বিলটি ২১৫-২০৮ ভোটে পাস হয়েছিল।