ভেনেজুয়েলায় পর পর আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯২০ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩ হাজার ৩৬০ জন। অন্তত ১৭২ জন এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গতকাল শুক্রবার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, রাজধানী কারাকাসসহ দেশের উত্তরাঞ্চলে অন্তত ডজনখানেক ভবন ধসে পড়েছে। হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ বাড়ায় অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্রে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ভেনেজুয়েলা সরকারের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কয়েক শ আন্তর্জাতিক উদ্ধারকর্মী এরই মধ্যে দেশটিতে পৌঁছেছেন। আরও অনেকে আসার পথে রয়েছেন।
গত বুধবার ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ভেনেজুয়েলা। এর মধ্যে রিখটার স্কেলে দ্বিতীয় কম্পনটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫, যা গত এক শতাব্দীর মধ্যে দেশটির ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প।
কারাকাসের উত্তরাঞ্চলীয় এলাকা লা গুয়াইরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
লা গুয়াইরার বাসিন্দা নাতাচা দিয়াজ বিবিসিকে জানান, তার ২২ ও ২৩ বছর বয়সী দুই মেয়ে একটি শপিং মলের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন। তারা সেখানে ম্যানিকিউরিস্ট হিসেবে কাজ করতেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে দিয়াজ বলেন, ‘ওরা ওদের বন্ধুদের সঙ্গেই ছিল। আমি শুধু চাই, ওদের খুঁজে বের করা হোক। আমার বিশ্বাস ও আশা, ওরা বেঁচে আছে। আমি শুধু আমার সন্তানদের আমার কাছে ফেরত চাই। ওরাই আমার সব।’