ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে বাড়িতে সন্তান প্রসবের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ৩২ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। গর্ভধারণকালে কোনো চিকিৎসকের শরণাপন্ন হননি তিনি।
হাসপাতালের পরিবর্তে বাড়িতে সন্তান জন্ম দেওয়ার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তার পরিবার ইউটিউব ভিডিওর পরামর্শের ওপর নির্ভর করেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে নবজাতক কন্যাশিশুটি সুস্থ আছে।
আজ মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানিয়েছে, সন্তান প্রসবের পর মারা যাওয়া ওই নারীর নাম শশীকলা। তিনি রাজ্যের তিরুপ্পুর জেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা।
নিজের বাড়িতে দ্বিতীয় সন্তান প্রসবের পর শশীকলার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। গুরুতর জটিলতা দেখা দিলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। অনেক চেষ্টা করেও চিকিৎসকেরা শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচাতে পারেননি।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, প্রথম সন্তান প্রসবের সময় শশীকলার অস্ত্রোপচার (সিজার) হয়েছিল। এরপর থেকে অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসার প্রতি তার এক ধরনের অনীহা তৈরি হয়।
পুলিশের সন্দেহ, দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচার (সিজার) এড়াতে পরিবারটি ইউটিউবে পাওয়া তথ্য অনুসরণ করে বাড়িতেই নরমাল ডেলিভারি করানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
পুলিশের এক কর্মকর্তা এনডিটিভিকে বলেন, ‘পরিবারটি নরমাল ডেলিভারি চেয়েছিল। তাই তারা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের জন্য সরকারি স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেনি। বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি।’
পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দায়ের করা না হলেও শশীকলার স্বামী কোলানথাইসামির বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশ। এই মামলায় জাতীয় মেডিকেল কমিশন (এনএমসি) আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাও যুক্ত করা হয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রসবের পুরো প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হয়েছিল, ইউটিউবসহ অনলাইনভিত্তিক অযাচাইকৃত চিকিৎসা পরামর্শের কোনো ভূমিকা ছিল কি না এবং অনুমোদনহীন কেউ প্রসবে সহায়তা করেছিলেন কি না, এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।