বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচি গড়ে তুলতে সৌদি আরবকে সুযোগ করে দিতে তাদের সঙ্গে এক ঐতিহাসিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রণালয় বলছে, এটি একটি ‘শান্তিপূর্ণ পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি’, যা সৌদি আরবের পরমাণু শক্তি কর্মসূচিতে ‘মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় সুযোগ’ তৈরি করবে।
গতকাল বুধবার স্বাক্ষরিত চুক্তির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি বলে জানিয়েছে বিবিসি। তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এই চুক্তির ফলে ভবিষ্যতে সৌদি আরব নিজেদের দেশে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি পেতে পারে।
সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যেমন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তেমনই এটি পারমাণবিক বোমা তৈরিতেও ব্যবহার করা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক অভূতপূর্ব পদক্ষেপ, যা এর আগে কখনোই দেখা যায়নি। তবে এর ফলে আগে থেকেই অস্থির মধ্যপ্রাচ্যে ভবিষ্যতে পরমাণু অস্ত্র প্রসারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সহযোগিতা চুক্তির পাশাপাশি একটি ‘দ্বিপক্ষীয় সুরক্ষা চুক্তিও’ স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘এই দুটি চুক্তি যৌথভাবে বহু বিলিয়ন ডলারের একটি দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বের আইনি ভিত্তি তৈরি করবে। এটি পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধের নিশ্চিতকরণসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।’
সৌদি সরকারের পক্ষ থেকেও একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, এই চুক্তিটি ‘জ্বালানি খাতে দুই দেশের বিদ্যমান সহযোগিতারই প্রসার’। গত বছরের নভেম্বরে সৌদি নেতার ওয়াশিংটন সফরের ধারাবাহিকতাতেই এই সিদ্ধান্ত এসেছে।
এমন এক সময়ে এই ঘোষণাটি এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘর্ষ তীব্রতর হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র সৌদি আরবে বেশ কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, যেগুলো সম্প্রতি ইরানি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।