ভারতের রাজধানী দিল্লিতে গত সোমবার ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সংসদ ভবন অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচিতে এক নারী আন্দোলনকারীকে পুলিশের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তার থাপ্পড় দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ওই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছে সিজেপি।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপির অ্যাকাউন্ট থেকে দিল্লি পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসিপি) সন্দীপ লাম্বার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
পোস্টে বলা হয়, ‘তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রথমে তাকে বরখাস্ত করতে হবে। এরপর একজন শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীকে মারধরের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে।’
পোস্টে ভারতের এবারের মেডিকের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং এর জেরে ২০ জন পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের জবাবদিহির অভাবের সমালোচনা করে সিজেপি।
এতে বলা হয়, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান মন্ত্রী থাকা অবস্থায় ২০ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করলেও তার কাছ থেকে এতটুকু জবাবদিহিরও দেখা মেলেনি।’
এর আগে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে অভিযোগ করেন, সোমবার পদযাত্রা কর্মসূচিতে সন্দীপ লাম্বা অন্যতম আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমোর ওপর হামলা করেছিলেন।
অভিজিতের দাবি, ‘তিনিই (সন্দীপ লাম্বা) সেই ব্যক্তি, যিনি গীতাঞ্জলি আংমোকে মারতে পদযাত্রার ট্রাকে উঠে গিয়েছিলেন। আমরা সবাই মিলে তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে যাই।
‘পরে তিনি গীতাঞ্জলির চুল টেনে ধরেন। সন্দীপ লাম্বা মানসিকভাবে পুলিশের দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত নন।’
এদিকে সিজেপির পদযাত্রার দিন দিল্লি পুলিশের দমন-পীড়নমূলক আচরণের সমালোচনা করেছে ভারতের প্রধান বিরোধী দলগুলো।
কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেনুগোপাল অভিযোগ করেন, কেন্দ্র সরকার পুলিশের বাড়াবাড়িকে প্রশ্রয় দিচ্ছে।
এক্সে তিনি বলেন, এটাই ‘অমিত শাহর (কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) ইউনিফর্ম পরা গুন্ডাদের আসল চেহারা’। পুলিশ সেদিন নারী শিক্ষার্থীদের মারধর করে। বিক্ষোভকারীদের পেটানোর সময় পুলিশ সদস্যরা তাদের ব্যাজ খুলে রাখে। সাদা পোশাকধারী ব্যক্তিদেরও আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হতে দেখা যায়।