ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন, তিনি টাইফয়েডে আক্রান্ত। তবে অসুস্থ হলেও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
আজ শনিবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ভারতজুড়ে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য সিজেপি সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান অভিজিৎ। এসময় সমর্থকদের তিনি ‘তেলাপোকা’ বলে সম্বোধন করেন। আন্দোলন সফল করার কৃতিত্বও তাদেরই দেন।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বার্তায় অভিজিৎ বলেন, ‘সবাইকে শুভেচ্ছা। আপনারা সবাই জানেন, গত কয়েকদিন ধরে আমি অসুস্থ বোধ করছিলাম। রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট এসেছে, তাতে টাইফয়েড ধরা পড়েছে। আমার চিকিৎসা চলছে। প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে।
‘তবে দেশজুড়ে যারা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন, সেইসব তেলাপোকাদের আমি মন থেকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আপনাদের কারণেই এই আন্দোলন এতটা সফল হয়েছে। আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ এবং এই আন্দোলনকে এত বড় সাফল্য দেওয়ার জন্য অভিনন্দন।’
অসুস্থ হলেও আন্দোলনের লক্ষ্য অর্জিত হবে বলে আশাবাদী অভিজিৎ। তিনি জানান, ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত এই আন্দোলন থামবে না।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে ভারত সরকার যদি তাদের অবস্থান স্পষ্ট না করে, তাহলে আরও ‘কঠোর পদক্ষেপ’ নেওয়ার কথা ককরোচ জনতা পার্টি পুনর্ব্যক্ত করার পরই এর প্রতিষ্ঠাতার এই বক্তব্য সামনে এলো।
এদিন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সিজেপির জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা জানান, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও পরমাণু শক্তি প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে তাদের গতকালের বৈঠক গঠনমূলক ছিল। তবে তাদের মূল দাবির বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের জন্য তারা অপেক্ষা করছে।
আশুতোষ বলেন, ‘গতকাল (শুক্রবার) সরকারের সঙ্গে বৈঠকে ক্ষতিপূরণ এবং মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে আমরা ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি। আমরা এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছি। আশা করছি আজই লিখিত চুক্তি পাব।
‘তবে আমাদের প্রধান যে দাবি, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত হয়নি।’
সিজেপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘গতকাল মূলধারার সংবাদমাধ্যমে সূত্রের বরাতে যা দেখলাম, তা হলো, ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করবেন না। তিনি যদি পদত্যাগ না-ই করেন, তাহলে এই বৈঠকগুলোর কোনো অর্থ হয় না।
‘এমনটা হলে আমরা আমাদের পরবর্তী কৌশল অনুযায়ী এগোব। পুরো দেশ ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করার পরও সরকার যদি নিজের অবস্থানে অনড় থাকে এবং বলে যে তিনি পদত্যাগ করবেন না, তাহলে তা স্পষ্ট করা হোক। কিন্তু সরকার যদি এই অবস্থান ধরে রাখে, তাহলে আমরাও আরও কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবো।’