ভারতের শিক্ষাবিদ ও অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক অভিযোগ করেছেন, দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশন কর্মসূচির ২১তম দিনে ১৮ জুলাই তাকে জোর করে সরকারি সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে তার সঙ্গে ‘বন্দির মতো’ আচরণ করা হয়।
সেখানে তার কাছে কোনো মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ রাখতে দেওয়া হয়নি। তার সঙ্গে কারোর দেখা করার অনুমতি ছিল না। তিনি নিজেও কক্ষের বাইরে যেতে পারতেন না।
গুরুগ্রামের মেদান্তা হাসপাতালের কক্ষে ধারণ করা সোনমের ২৪ মিনিটের একটি ভিডিও গতকাল শুক্রবার রাতে ইউটিউবে প্রকাশ করা হয়। সেখানে তিনি এসব অভিযোগ করেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।
৫৯ বছর বয়সী সোনম গত ২৮ জুন যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে অনশন শুরু করেন।
ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং এর জেরে ২০ জন পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনায় জুনের শুরু থেকে আন্দোলন করে আসছে সিজেপি।
তাদের দাবি, প্রশ্নফাঁসের দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে এবং নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
১৮ জুলাই ভোরে সিজেপির কর্মী-সমর্থকদের বাধা এবং নিজের আপত্তি সত্ত্বেও অনশনরত সোনম ওয়াংচুককে তুলে নিয়ে যায় দিল্লি পুলিশ। সেখান থেকে তাকে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তার স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো একপর্যায়ে ওই হাসপাতালে সুচিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হন। দিল্লি হাইকোর্টের অনুমতিতে গত মঙ্গলবার সোনমকে মেদান্তা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
দুদিন পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ভারত সরকারের আশ্বাসে টানা ২৬ দিনের আমরণ অনশন ভাঙেন সোনম। কেন্দ্র সরকার তাকে আশ্বাস দিয়েছে, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষাসহ অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় নানা অনিয়মের অভিযোগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পরদিন রাতে ইউটিউবে প্রকাশিত ওই ভিডিওতে সফদরজং হাসপাতালের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন সোনম।
এই অধিকারকর্মী বলেন, ‘ওটা শুধু একটা হাসপাতাল ছিল না; ওটা সেনানিবাস, কারাগার। আমাকে এমনভাবে রাখা হয়েছিল, যেভাবে হয়তো বন্দিকেও রাখা হয় না।’
তিনি বলেন, ‘সেখানে সবকিছুর ওপর বিধিনিষেধ ছিল। আমি কক্ষের বাইরে যেতে পারতাম না। এমনকি আমাদের কক্ষের আশপাশে একটি পাখিও ডানা ঝাপটাতে পারত না। কারও সঙ্গে দেখা করার অনুমতি ছিল না। শুধু তিন স্বজনকে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।’
লাদাখের এই অধিকারকর্মী অভিযোগ করেন, তার কাছে মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ রাখতে দেওয়া হয়নি। সমর্থকদের জন্য তিনি কাগজের ন্যাপকিনে লিখে কোনোভাবে বার্তা পাঠানোর চেষ্টা করতেন।
‘কিন্তু সেগুলোও অনেক সময় কেড়ে নেওয়া হতো। মনে হচ্ছিল, যেন আমি উত্তর কোরিয়ায় আছি।’
তিনি অভিযোগ করেন, দিল্লি হাইকোর্ট তাকে মেদান্তা হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দিলেও সফদরজং হাসপাতালে তাকে আরও বেশ কয়েক ঘণ্টা থাকতে হয়।
সোনম বলেন, বেসরকারি হাসপাতাল মেদান্তাকেও ‘সেনানিবাসে’ পরিণত করা হয়েছে। তার কক্ষের বাইরে ৫ থেকে ১০ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকে। নিচে আরও ২০০ থেকে ৩০০ জন সদস্য অবস্থান করে।
‘পুরো হাসপাতালকে এক ধরনের সেনানিবাসে পরিণত করা হয়েছে। এক ধরনের সেনা ক্যাম্প। কারও সঙ্গে আমাকে দেখা করতে দেওয়া হয় না। বাইরে যাওয়ার ওপরও বিধিনিষেধ আছে,’ বলেন এই অধিকারকর্মী।