ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) জানিয়েছে, দেশটির সাতটি প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের বিমান হামলায় তাদের অন্তত ২০ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার রাতের এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরাকের রাজধানী বাগদাদসহ ওয়াসিত, নিনেভে, বসরা, কিরকুক, কারবালা ও দিয়ালা প্রদেশে পিএমএফের ঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়। এতে বেশ কিছু ভবন, যানবাহন ও সামরিক সরঞ্জামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
এদিন এক বিবৃতিতে ইরাকের রাষ্ট্র-সমর্থিত এই জোট জানিয়েছে, হতাহতের এই সংখ্যা প্রাথমিক। মাঠপর্যায়ের সমীক্ষা ও ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনার পর এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এদিকে মঙ্গলবার রাতভর মার্কিন-সৌদি হামলার পর পরিস্থিতি পর্যালোচনায় পরদিন সকালে জরুরি বৈঠক ডাকেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি।
দেশটির মন্ত্রিসভার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের এই বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত পরে বিবৃতি আকারে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
পিএমএফ কী
সিএনএন বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার দাবি করা পিএমএফ ইরাকের নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ। এক দশকেরও বেশি আগে ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য এই বাহিনী গঠন করা হয়।
পিএমএফ ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনীর অধীন একটি সংগঠন, যার মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশ ইরাকে প্রভাব বিস্তার করে আসছে ইরান। সংগঠনটি মূলত শিয়া আধাসামরিক গোষ্ঠীগুলোর সমন্বয়ে গঠিত।
২০১৪ সালে আইএস ইরাকের বিস্তীর্ণ এলাকায় অগ্রসর হলে দেশটির সরকার সাধারণ নাগরিকদের রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে যোগ দিয়ে লড়াইয়ের আহ্বান জানায়।
এরপর নতুন স্বেচ্ছাসেবক এবং আগে থেকেই সক্রিয় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে পিএমএফের অধীনে আনা হয়।
আইএসকে পরাজিত করা এবং ইরাকের বিভিন্ন এলাকা পুনর্দখলে পিএমএফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরে ২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বাহিনীটিকে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
পিএমএফের কয়েকটি প্রভাবশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
লেবাননের হিজবুল্লাহ, গাজার হামাস এবং ইয়েমেনের হুতিদের পাশাপাশি ইরাকের পিএমএফ ইরানের প্রতিরোধের অক্ষের অংশ হিসেবে বিবেচিত।
তেহরান-সমর্থিত পিএমএফ অতীতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালায়।