বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে নতুন বহুজাতিক নৌ সামরিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরবসহ ১৪টি দেশ।
গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, সম্মিলিত সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স (বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, জোটভুক্ত দেশগুলো জানিয়েছে, ওই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখা এবং নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। ভারত মহাসাগরের সঙ্গে ভূমধ্যসাগরকে যুক্ত করা এই করিডোরটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু যখন হরমুজ প্রণালি হয়ে উঠেছে, ঠিক তখনই এই পদক্ষেপটি নেওয়া হলো।
বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ হয় এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে। পথটি বর্তমানে বন্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্ব অর্থনীতি চরম সংকটে পড়েছে।
পাশাপাশি সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার মুখে পড়েছে বাব আল-মান্দেব, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরীয় পথটি।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই জোট গঠনের লক্ষ্যে আয়োজিত সম্মেলনে আমন্ত্রিত ৫১টি দেশের মধ্যে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদলও ছিল।
লোহিত সাগরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অ্যাসপাইডস নামে একটি নিজস্ব নৌ নিরাপত্তা মিশন এরই মধ্যে চালু রয়েছে।
এই জোটে স্বাক্ষরকারী অন্য দেশগুলো হলো তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিসর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, বাংলাদেশ, ইয়েমেন, সুদান এবং কোমোরোস।
সৌদি নেতৃত্বাধীন নতুন এই জোট কীভাবে কাজ করবে বা আগের মিশনগুলোর চেয়ে কতটা আলাদা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, ইরান সংঘাতের জেরে একই ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকা সত্ত্বেও সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান এই জোটে অংশ নেয়নি।