সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি ‘কোনো দেশকে লক্ষ্য করে নয়’ বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তিনি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা চাওয়া সব ‘ভ্রাতৃপ্রতিম’ দেশের এই চুক্তিতে অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক গতকাল শুক্রবার ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’-তে সই করার কয়েক ঘণ্টা পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এরদোয়ান এ কথা বলেন।
চুক্তি অনুযায়ী, স্বাক্ষরকারী তিন দেশের কোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
পাকিস্তানের জিও নিউজ জানিয়েছে, জেদ্দায় মক্কা আল-মুকাররমা সম্মেলনে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। যৌথ প্রতিরক্ষাবিষয়ক ওই সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান অংশ নেন।
এক্সে শুক্রবার তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘সম্মিলিত প্রতিরোধব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে করা এই চুক্তি আমাদের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এগিয়ে নিতে, প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ প্রকল্প গড়ে তুলতে এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অবদান রাখবে।
‘জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত আত্মরক্ষার অধিকারও এই চুক্তিতে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। চুক্তিটি কোনো দেশকে লক্ষ্য করে নয় এবং আমাদের অঞ্চলে শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা চায়, এমন ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের অংশগ্রহণের জন্য এটি উন্মুক্ত।’
আঞ্চলিক সংকট সমাধানে তুরস্ক সংলাপ ও কূটনীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বলেও জানান এরদোয়ান।
তিনি বলেন, ‘আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজেদের উদ্যোগে সমস্যা সমাধানের যে দৃষ্টিভঙ্গি তুরস্ক অনুসরণ করে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সংঘাত ও সংকট নিরসনে তুরস্ক নীতিগত অবস্থান দৃঢ়ভাবে অব্যাহত রাখবে।’
‘প্রার্থনা করি, আমাদের আলোচনা ও পরামর্শ এবং স্বাক্ষরিত চুক্তি পুরো অঞ্চলের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে,’ যোগ করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট।
এদিকে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান জানান, এই চুক্তি তিন দেশের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সম্পর্কের গভীরতার প্রতিফলন এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে মন্ত্রী বলেন, চুক্তিটি ‘অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ানো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথভাবে কাজ করার অভিন্ন আকাঙ্ক্ষাকে আরও শক্তিশালী করেছে’।