ভারতের হায়দরাবাদের ন্যাশনাল একাডেমি অব লিগ্যাল স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ ইউনিভার্সিটির একদল শিক্ষার্থী সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা আজ রোববার উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, শিক্ষক ও প্রশাসনের অন্যান্য সদস্যের কাছে চিঠি দিয়ে প্রধান বিচারপতিকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া চিঠিতে শিক্ষার্থীরা প্রধান বিচারপতির সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এর মধ্যে রয়েছে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ নিয়ে আদালতে প্রধান বিচারপতির মন্তব্য এবং তারও আগে আদালতে ভারতীয় তরুণদের ‘তেলাপোকার’ সঙ্গে তুলনার ঘটনা।
চিঠিতে শিক্ষার্থীরা লিখেছেন, ‘আমরা ২০২৫-২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা সমাবর্তনের প্রধান অতিথি হিসেবে মাননীয় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে আমাদের বিদায়ী ব্যাচের উদ্বেগের সঙ্গে একমত।’
চিঠিতে বলা হয়, “তরুণদের ‘তেলাপোকার’ সঙ্গে তুলনা থেকে শুরু করে যন্তর মন্তরে পুলিশের নৃশংসতার ‘ভিডিও দেখার সময় নেই’, এমন সব অসংবেদনশীল মন্তব্য করে প্রধান বিচারপতি শিক্ষার্থীদের প্রতি উদাসীনতা দেখিয়েছেন।
‘আমাদের কাছে যে ডিগ্রি একাডেমিক ও আবেগের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ, তা তুলে দেওয়ার জন্য তাকে আমাদের ক্যাম্পাসে আমন্ত্রণ জানানো আমরা মেনে নিতে পারছি না।’
এ পরিস্থিতিতে প্রধান বিচারপতিকে সমাবর্তনে আমন্ত্রণ জানানো হলে তা সাংবিধানিক জবাবদিহি ও শিক্ষার স্বাধীনতার সঙ্গে সম্পর্কিত মূল্যবোধের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ হবে বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
তাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
চিঠির শেষে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে মাননীয় প্রধান বিচারপতিকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তাবটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানাচ্ছি।
‘একই সঙ্গে আমরা আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এটিকে কোনো একটি ব্যাচের উত্থাপিত বিষয় হিসেবে না দেখে সব বিদায়ী ব্যাচের অভিন্ন উদ্বেগ হিসেবে বিবেচনা করবে।’
গত ১৫ মে আদালতে একটি মামলার শুনানির সময় এক আইনজীবীকে তিরস্কার করতে গিয়ে ভারতের তরুণ সমাজকে ‘পরজীবী’ ও ‘তেলাপোকার’ সঙ্গে তুলনা করেছিলেন প্রধান বিচারপতি। তার এই মন্তব্যের জেরে গড়ে ওঠে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
সূর্য কান্ত বলেছিলেন, ‘এরা (তরুণেরা) কোনো চাকরি পায় না। পেশাগত জগতেও এদের কোনো স্থান নেই। তাদের কেউ কেউ পরে সংবাদকর্মী বনে যায়, কেউ সোশ্যাল মিডিয়া চালায়, আবার কেউ তথ্যের অধিকারকর্মী বা অন্যান্য সমাজকর্মী সেজে সবাইকে আক্রমণ করা শুরু করে।’
তীব্র সমালোচনার মুখে পরে অবশ্য প্রধান বিচারপতি তার এই মন্তব্যের ব্যাখ্যায় বলেছিলেন, ‘জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া ডিগ্রি নেওয়া কিছু মানুষকে’ উদ্দেশ্য করে তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন। ভারতের তরুণ সমাজকে ‘আঘাত করা তার উদ্দেশ্য ছিল না’। তাদের তিনি ‘উন্নত ভারতের স্তম্ভ’ হিসেবে অভিহিত করেন।
সূর্য কান্তের আত্মপক্ষ সমর্থন করে দেওয়া ব্যাখ্যা অবশ্য সন্তুষ্ট করতে পারেনি তরুণদের। এ কারণে তার হাত থেকে তারা সমাবর্তনের দিন সার্টিফিকেট নিতে চাইছেন না।