ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষে হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড ঘোষণা সংক্রান্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যটি মূলত ‘রসিকতা’ ছিল বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম।
হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদক ব্রায়ান শোয়ার্টজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে গতকাল শুক্রবার জানান, এমন কোনো পদক্ষেপ নিয়ে ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেননি।
তুরস্কের আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক্সে শোয়ার্টজ লেখেন, ‘যুদ্ধ শেষে হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের সঙ্গে কোনো বৈঠক করেননি। আজ নিউইয়র্কে দেওয়া বক্তব্যে তিনি রসিকতা করেছিলেন।’
নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে শুক্রবার নাসাউ কাউন্টি পুলিশ একাডেমিতে এক সমাবেশে ট্রাম্প ওই মন্তব্য করেন।
হাসতে হাসতে সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ইরানকে পুরোপুরি পরাজিত করার কাজ শেষ হলে, যদিও তারা এরই মধ্যে খুব বাজেভাবে পরাজিত হচ্ছে, খুব শিগগিরই আমি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করব।’
এরপর তিনি যোগ করেন, ‘এটা সত্যি।’
ট্রাম্পের ওই বক্তব্যের সময় সমাবেশে উপস্থিত থাকা শোয়ার্টজ পরে বলেন, মন্তব্যটি করার পর ট্রাম্প হাসলেও পরে তিনি সেটি সত্যি বলে জোর দেওয়ার চেষ্টা করেন।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে চলাচল যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের অবরোধ রয়েছে। আমরা না চাইলে কোনো জাহাজই যেতে পারবে না।’
এদিকে ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করার মন্তব্যের জবাবে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক বলেন, টুইট করে, বিমানবাহী রণতরি পাঠিয়ে, আদেশ বা নির্বাচনী ভাষণ দিয়ে হরমুজ প্রণালি দখল করা যায় না।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি পরাজয় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আজ শনিবার ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ইরান হুমকিকে ভয় পায় না। আবার শক্তি প্রদর্শন করেও তাকে ভয় দেখানো যায় না।
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি ইরানের ছিল, ইরানের আছে এবং ইরানেরই থাকবে।
গারিবাবাদি বলেন, ‘এই প্রণালি কেবল ইরানের নির্দেশেই বন্ধ বা খোলা হবে। যতক্ষণ না তোমরা (যুক্তরাষ্ট্র) পরাজয়ের বাস্তবতা মেনে নিচ্ছো এবং কল্পনার জগৎ থেকে বেরিয়ে আসছো, ততক্ষণ ইরান হরমুজে অবরোধ বজায় রাখবে।’