গাজায় ২০২৪ সালে পাঁচ বছরের ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রজব ও তার আত্মীয়দের বহনকারী গাড়িতে গুলি চালানোর কথা প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
হামলার পর শুরুতে হিন্দ বেঁচে ছিল এবং সাহায্যের জন্য আকুতি জানিয়ে একটি ফোন করেছিল। সেই ফোনালাপ ঘণ্টাখানেক স্থায়ী হয়।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে পরে হিন্দকে উদ্ধারের জন্য অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়েছিল। তবে সেটিতেও গোলাবর্ষণ করা হয়। এতে দুজন জরুরি স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হন। কয়েকদিন পর অন্যদের মরদেহের সঙ্গে হিন্দের লাশও উদ্ধার করা হয়।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হিন্দ, তার পরিবার ও জরুরি স্বাস্থ্যকর্মীদের হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি ২০২৫ সালের মার্চে ১৫ জন ফিলিস্তিনি (যাদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর্মী এবং জাতিসংঘের একজন কর্মী আছেন) হত্যার ঘটনায় তারা তদন্ত শুরু করবে।
উভয় ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক নিন্দার ঝড় তোলে।
হিন্দ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আইডিএফ বলেছে, ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্টের অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের সমন্বয়ে কথিত ব্যর্থতার কারণে মিলিটারি পুলিশ ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের মাধ্যমে এ ঘটনায় ফৌজদারি তদন্ত শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আইডিএফ বলেছে, তাদের তদন্তের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সেনারা একটি গাড়িতে গুলি চালিয়েছিল। গাড়িটি ওই এলাকার বাসিন্দাদের উদ্দেশে আইডিএফ মুখপাত্রের আগাম দেওয়া নির্দেশনার বিপরীত পথে চলছিল।
হিন্দ নিহত হওয়ার সময় ওই এলাকায় তাদের কোনো সেনাসদস্য ছিল না বলে শুরুতে দাবি করেছিল আইডিএফ। তবে দ্রুতই সেই দাবি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
পরে আইডিএফ জানায়, গাজা সিটির বিভিন্ন এলাকায় (যার মধ্যে হিন্দের অবস্থান করা তেল আল-হাওয়া এলাকাও ছিল) তাদের সেনারা ‘সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান’ চালায়।
মৃত্যুর আগমুহূর্তে হিন্দের সাহায্য চেয়ে করা সেই ফোনকলের রেকর্ড বিশ্বজুড়ে প্রচারিত হলে ঘটনাটি সমালোচনার মুখে পড়ে।