সিরিয়ার আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে চলতি সপ্তাহে হামলা চালানোর মতো কোনো ‘বৈধ ভিত্তি ইসরায়েলের ছিল না’ বলে মন্তব্য করেছেন সিরীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি। ওই স্থানটি তুর্কি সামরিক ঘাঁটি তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে ইসরায়েলের করা দাবিও পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে গতকাল বুধবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানান।
আল-শাইবানি বলেন, ‘সেখানে কোনো তুর্কি ঘাঁটি স্থাপন, স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি তৈরি কিংবা তুর্কি সেনা মোতায়েন করার উদ্দেশ্য আমাদের ছিল না।’
তিনি জানান, বিমানঘাঁটিটি ‘মূলত ফাঁকা ও অব্যবহৃত’। সেখানে যা কাজ হচ্ছিল, তা কেবল ‘সিরীয় বিমান বাহিনীর ব্যবহারের উদ্দেশ্যে গৃহযুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত রানওয়ে ও এর আশপাশের অবকাঠামো সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল’।
হামলার কয়েকদিন আগে তুর্কি সামরিক কর্মকর্তারা ঘাঁটিটি পরিদর্শন করেছিলেন বলে স্বীকার করেন আল-শাইবানি।
তবে বিষয়টিকে তিনি প্রশিক্ষণ ও কৌশলগত অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্রে ‘চলমান সামরিক সহযোগিতা’ হিসেবে অভিহিত করেন; যা সৌদি আরব, জর্ডান, কাতার ও রাশিয়ার সঙ্গে সিরিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মতোই স্বাভাবিক।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সিরিয়া সার্বভৌম রাষ্ট্র। তুরস্কসহ যেকোনো দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা ও মিত্রতার সম্পর্ক গড়ে তোলার পূর্ণ অধিকার তার রয়েছে।’
আল-শাইবানি জানান, ওয়াশিংটনকে দামেস্ক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা ‘সিরিয়া ইস্যুতে ইসরায়েলের উদ্দেশ্যকে মোটেও বিশ্বাস করে না এবং মনে করে, বিদ্যমান ইসরায়েলি নীতি সিরিয়া বা সামগ্রিক আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পক্ষে অনুকূল নয়’।
সিরিয়া এখনো নিরাপত্তা চুক্তির প্রস্তাবের বিষয়ে খোলাখুলি আলোচনা করতে প্রস্তুত উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তবে উত্তেজনা প্রশমনের দায়ভার কখনো এককভাবে কোনো একটি নির্দিষ্ট পক্ষের হতে পারে না।’