যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ এমন এক অঙ্কে পৌঁছেছে যা উপেক্ষা করা কঠিন, ৪০ ট্রিলিয়ন (৪০ লাখ কোটি) ডলার। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দেশটিতে ঋণ নেওয়ার খরচ বা সুদের হার যখন অনেক চড়া, ঠিক তখনই মোট ঋণের এই রেকর্ড লাফ দেখা গেল।
এর পাশাপাশি, দীর্ঘমেয়াদী মার্কিন ট্রেজারি ইয়েল্ড (বিনিয়োগের বিপরীতে বন্ড থেকে প্রাপ্য সুদের হার) কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা সরকারের সুদ পরিশোধের বোঝা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও যুক্তি দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ নেওয়ার জন্য অনেক কম সুদ দেওয়া উচিত।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট বলেন, নিজেদের বন্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবচেয়ে কম সুদের হার’ পাওয়া উচিত। তার মতে, ‘কম সুদের হারের ফলে সরকারের বিশাল পরিমাণ অর্থ বেঁচে যেতে পারে।’
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের তীব্র সমালোচনা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাদের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে কাজ করার অভিযোগ তোলেন।
তবে ট্রাম্প জানান, চলতি বছরের শুরুর দিকে তিনি যাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান হিসেবে মনোনীত করেছিলেন, সেই কেভিন ওয়ারশ ‘চমৎকার কাজ’ করছেন।
সুদের খরচ কমাতে চান ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্র যদি কম সুদের হারে ঋণ নিতে পারে, তাহলে তাদের বার্ষিক সুদের পরিমাণ এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে যাবে। এর ফলে সরকারের অন্যান্য খাতে খরচের জন্য অর্থ বেঁচে যাবে এবং ফেডারেল বাজেটের ওপর থেকেও চাপ কমবে।
তবে এখানে একটি সমস্যা রয়েছে। ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার যুক্তরাষ্ট্র সরকার একা নির্ধারণ করে না। এটি নির্ধারণ করেন বিনিয়োগকারীরা।
দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন সরকারি বন্ড ধরে রাখার বিনিময়ে বিনিয়োগকারীরা যখন বেশি মুনাফা দাবি করেন, তখন যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ নেওয়ার খরচও বেড়ে যায়।
আর দেশটির ঋণের পরিমাণ যত বাড়ছে, ঋণ নেওয়ার খরচ সামান্য বাড়লেও সুদ পরিশোধের পরিমাণ বিপুলভাবে বেড়ে যেতে পারে।
এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে ৩০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদ ৫ দশমিক ২২ শতাংশে উঠেছিল। ২০০১ সালের পর এটিই ছিল সর্বোচ্চ।
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সরকার জাতীয় প্রতিরক্ষা খাতের চেয়েও বেশি অর্থ ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় করছে।