যুক্তরাজ্যের অধিকার সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের পাঁচ কর্মীকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় সাজা দেওয়া যাবে না বলে রায় দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত।
ওই অধিকারকর্মীরা হলেন ব্রেন্ডন ও’হেগান (২৮), আমান্ডা কেলি (৩১), হমিরা আতিকনিসার (৩১), মোহাম্মদ মালিক (২৮) এবং আলমা ইয়ানিভ (৭০)।
গত জুনে ল্যাঙ্কাশায়ারের বার্নলি শহরে বার্কলেজ ব্যাংকের একটি শাখায় ২ লাখ ১২ হাজার পাউন্ড (২ লাখ ৯০ হাজার ডলার) মূল্যের ক্ষতিসাধনের দায়ে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
ইসরায়েলি অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমসে ব্যাংকটির শেয়ার থাকার প্রতিবাদে ২০২৪ সালের আগস্টে ওই অধিকারকর্মীরা বিক্ষোভ করেছিলেন।
আল জাজিরা জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার প্রেস্টন ক্রাউন কোর্টের বিচারক রবার্ট আলথাম তার রায় ঘোষণা করার সময় বাইরে জড়ো হওয়া পাঁচ অধিকারকর্মীর বহু সমর্থক উল্লাস ও ফিলিস্তিনপন্থী স্লোগানে ফেটে পড়েন।
মোহাম্মদ মালিকের মা ডাভ মালিক আল জাজিরাকে বলেন, ‘এটা আমাদের বিজয়, ফিলিস্তিনের বিজয়, প্রতিবাদ করার অধিকারের বিজয়। ইতিহাসের সঠিক পক্ষেই আমরা আছি।’
এক যৌথ বিবৃতিতে ওই পাঁচ অধিকারকর্মী বলেন, ‘আদালত বিষয়টি বুঝতে পেরে আমাদের সন্ত্রাসী হিসেবে সাজা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আমরা অত্যন্ত স্বস্তি পেয়েছি।
‘এটি কখনোই বিবেচনার বিষয় হওয়া উচিত ছিল না। আমাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ক্ষতিসাধনের অভিযোগে বিচার চলছিল। বার্কলেজ ব্যাংকের একটি শাখার কয়েকটি জানালা ভাঙা ও ভবনটিতে লাল রং ছিটানোর অভিযোগে।
‘পুরো বিচার চলাকালে কখনো আমাদের বা জুরিকে জানানো হয়নি যে, দোষী সাব্যস্ত হলে আমাদের সন্ত্রাসী হিসেবে সাজা দেওয়া হতে পারে।’
আগামী ৪ সেপ্টেম্বর এই পাঁচ অধিকারকর্মীর সাজা ঘোষণার কথা রয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, তাদের দোষী সাব্যস্ত করার সময় প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে নিষিদ্ধ করা হয়নি। ফলে আসামি বা জুরি, কেউই জানতেন না যে, এ মামলায় সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ বিবেচনায় আসতে পারে।
তবে রায় ঘোষণার পর মামলার বিচারক ফিলিপ প্যারি আসামিদের আইনজীবী দলকে জানান, তিনি অপরাধটির সঙ্গে ‘সন্ত্রাসবাদের যোগসূত্র’ রয়েছে কি না, তা বিবেচনা করতে চান।