কানাডা বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করার পরপরই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কানাডার সমালোচনা করার পাশাপাশি দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ বলে পুরোনো খোঁচাটি আবার দিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে গতকাল শনিবার রাতে ট্রাম্প বলেন, ‘কানাডা অঙ্গরাজ্য হওয়ার সুবিধা চায়, অথচ অঙ্গরাজ্য হতে চায় না!!! বহু বছর ধরে তারা আমাদের মহান কৃষকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ শুল্ক আদায় করেছে। আর নয়!!!’
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি তার প্রতিনিধি দলকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়ার পর এটাই ট্রাম্পের প্রথম প্রতিক্রিয়া।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, এর আগে ওয়াশিংটনের শেষ মুহূর্তের কিছু দাবিকে ‘অতিরিক্ত’ ও ‘অর্থনৈতিকভাবে অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করে অটোয়া।
কার্নি এসব দাবিকে কানাডার জন্য ‘ক্ষতিকর’ বলেন।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন কিছু শর্ত দিয়েছে। এতে রাজি হলে কানাডার তৈরি গাড়ির ওপর শুল্ক ছাড়ের পরিমাণ কমে যেত, অন্য দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করার ক্ষেত্রে অটোয়ার সক্ষমতা সীমিত হতো এবং কানাডার ভাষা ও সংস্কৃতির সুরক্ষা দুর্বল হয়ে পড়ত।
‘সংক্ষেপে বলতে গেলে, তারা অনেক বেশি চেয়েছে। বিনিময়ে খুব কম দিতে চেয়েছে,’ যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমালে দেশটির ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও গাড়ির ওপর আরোপ করা পাল্টা শুল্ক প্রত্যাহার করতে প্রস্তুত ছিল অটোয়া।
এছাড়া কানাডার প্রদেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালকোহল বিক্রি পুনরায় চালুর জন্য উৎসাহিত করতেও রাজি ছিল দেশটি।
তবে কার্নি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত দাবিগুলো কানাডার পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব ছিল না।
অটোয়ার অবস্থান তুলে ধরে কার্নি বলেন, ‘আমাদের নিজেদের ঘরে আমরাই কর্তৃত্ব করি।’
ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক একীভূতকরণকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার’ করার অভিযোগও করেন তিনি। একই সঙ্গে বলেন, ‘তাদের স্বাক্ষর পেন্সিলে লেখা ছিল।’ অর্থাৎ তাদের প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করার মতো নিশ্চয়তা ছিল না।