যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইউক্রেনে প্রথম সরকারি সফরে রাশিয়ার হুমকি সত্ত্বেও মস্কোর ওপর চাপ বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।
বিবিসি জানিয়েছে, সফরকালে বার্নহ্যাম ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন এবং তার পূর্বসূরি কিয়ার স্টারমারের আমলে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের উদ্যোগে গঠিত ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
বার্নহ্যাম জানান, এই জোট ‘সাধ্যের সবটুকু করছে’। পাশাপাশি রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ ‘আরও জোরদার’ করার জন্য তিনি মার্কিন কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানান।
যুক্তরাজ্যের স্টর্ম শ্যাডো ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের ফরাসি সংস্করণ স্ক্যাল্প ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য ব্রিটিশ নির্মিত বিভিন্ন যন্ত্রাংশের নকশা ইউক্রেনের হাতে তুলে দিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। এর ফলে ইউক্রেন নিজেদের দেশেই এই দূরপাল্লার অস্ত্র তৈরি করতে পারবে।
বার্নহ্যাম জানান, ইউক্রেনকে সুরক্ষা দিতে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে মিত্রদেশগুলো ‘নিজেদের মজুত থেকে সহায়তা করা এবং অন্যদের মজুত থেকেও সরবরাহে উৎসাহিত করতে সাধ্যমতো সব চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে’।
ইউক্রেনীয় জনগণের ‘সাহসিকতার’ প্রশংসা করে বার্নহ্যাম বলেন, ‘রাশিয়ার ওপর চাপ বজায় রাখার এবং এই অবৈধ যুদ্ধে অর্থায়নের ক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়।’
তিনি বলেন, ‘ইউক্রেন ইউরোপের রক্ষক হিসেবে কাজ করছে। তারা আমাদের নিরাপত্তার জন্য কোনো বোঝা নয়, বরং ইউরোপকে নিরাপদ রাখার অগ্রপথিক।’
ক্ষেপণাস্ত্রের ব্লুপ্রিন্ট শেয়ার করার জন্য যুক্তরাজ্যের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ।
পেশকভের সমালোচনার পরই বার্নহ্যামের এই সফর ও বক্তব্য এলো। পেশকভ দাবি করেছিলেন, যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপ শান্তির পথে ‘সামান্যতম অগ্রগতিকেও’ বাধাগ্রস্ত করছে।
সোমবার সাংবাদিকদের পেশকভ জানান, যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র চিহ্নিত করে তা ধ্বংস করার জন্য রুশ সামরিক বাহিনী এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছে।
তিনি বলেন, ‘ব্রিটেন কিয়েভ সরকারের পক্ষে এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। তারা পদ্ধতিগতভাবে এবং নিয়মিত বিরতিতে আগুনে ঘি ঢালছে।’
পেশকভের এই মন্তব্যের জবাবে বার্নহ্যাম বলেন, ‘আগুনটা লাগিয়েছিল কে? প্রশ্ন তো সেটাই, তাই নয় কি?’