জাপানের উত্তরাঞ্চলে ‘সো-রে, সো-রে’ চিৎকার ও সুরের তালে তালে গেল সপ্তাহান্তে সমবেত হয়েছিলেন প্রায় ১ হাজার ৮০০ মানুষ। সেখানে একটি দুর্গের সংস্কারকাজের অংশ হিসেবে ৩৬০ টন ওজনের বিশাল এক টাওয়ারকে টেনে মূল অবস্থানের দিকে দুই মিটারের বেশি সরানো হয়।
দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ২০১৫ সালে ভয়াবহ ভূমিকম্পে হিরোশাকি দুর্গের পাথরের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই দেয়াল নিরাপদে মেরামত করার জন্য ২০১৭ সালে ৩৬০ টন ওজনের পুরো টাওয়ারটিকে অক্ষত অবস্থায় মূল অবস্থান থেকে প্রায় ৭০ মিটার দূরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
সপ্তাহান্তে জাপানের আওমোরি প্রশাসনিক অঞ্চলের হিরোশাকি দুর্গের টাওয়ারটিকে তার মূল অবস্থানের দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য ৮০ জনের একেকটি দল ৩০ মিটার লম্বা দড়ি ধরে টান দেয়।
রেলের ওপর বসানো এই টাওয়ারকে গত শনিবার অংশগ্রহণকারীরা ১ দশমিক ১৩ মিটার টানতে সক্ষম হন এবং পরদিন এটিকে আরও ১ দশমিক শূন্য ৯ মিটার সরিয়ে আনা হয়।
হিরোশাকি সিটি করপোরেশনের পার্কস অ্যান্ড গ্রিন স্পেসেস বিভাগের প্রধান কেনসুকে হায়াসাকা গতকাল সোমবার দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘গত দুই দিনে ১ হাজার ৮০০টি আসনের বিপরীতে আমাদের কাছে প্রায় ৮ হাজার আবেদন জমা পড়েছিল। চাহিদার চেয়ে চার গুণ বেশি আবেদন আসায় সবাইকে টাওয়ার টানায় অংশ নিতে দেওয়া সম্ভব হয়নি।’
‘কেবল এই শহরের মানুষই নন, গোটা জাপানসহ বিদেশ থেকেও অনেকে এসেছিলেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা থেকেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ এতে অংশ নেন,’ যোগ করেন তিনি।
সংস্কারকাজে ঐতিহাসিক এই স্থাপনা অক্ষত রাখতে হিকিয়া নামের এক বিশেষ ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এই পদ্ধতিতে ভবন ভেঙে না ফেলে রোলারের ওপর বসিয়ে সরাসরি স্থানান্তর করা হয়।
২০১৫ সালে শহর কর্তৃপক্ষ সরাসরি সর্বসাধারণকে এই কাজে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। সেটিই ছিল নাগরিকদের সরাসরি অংশগ্রহণে প্রথম হিকিয়া কার্যক্রম। প্রায় এক শতাব্দীর মধ্যে এ ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করে কোনো দুর্গ স্থানান্তরেরও ছিল প্রথম ঘটনা।
হায়াসাকা বলেন, ‘যেহেতু এই টাওয়ার রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক সম্পদ, তাই আমরা এটিকে ভেঙে টুকরো করিনি। আমরা হিকিয়া পদ্ধতি ব্যবহার করেছি, যা প্রাচীনকাল থেকে জাপানে ভবন স্থানান্তরের প্রচলিত কৌশল।’