প্রকাশিত : ২০ নভেম্বর ২০২৫, ৪:৫১:১৮
মানুষ সমাজ গড়েছে বহু যুগ আগে। এ সভ্যতা কখনো কাঁঠালগাছের ডগায় দাঁড়িয়ে চাঁদ ছুঁতে চেয়েছে, কখনো রথের চাকা ঘুরিয়ে সময়ের স্রোতে ভবিষ্যতের পথ ধরেছে। গুহার অন্ধকার ছেড়ে ছুটে গেছে নক্ষত্রের উঠোনে। সেই অনন্ত যাত্রাপথে এবার প্রযুক্তির নটরাজ ইলন মাস্ক খুলে দিলেন এক বিস্ময়ের নতুন দিগন্ত—যেখানে মুদ্রা গুরুত্বহীন, আর কাজ প্রয়োজন হারিয়ে হয়ে ওঠে নিছক শখ।
ফক্স বিজনেসের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত (এআই) সেই ভবিষ্যতের ছবিটা মাস্ক আঁকলেন নিখুঁত আত্মবিশ্বাস নিয়ে। তার ধারণার শিকড় প্রথিত রয়েছে এক্সএআই, টেসলা বট, গ্রোকিপিডিয়া থেকে শুরু করে মহাকাশ-ভিত্তিক সৌরশক্তিতে। এসব কিছু মিলেই যেন তিনি কল্পনা করছেন এক নতুন অর্থনৈতিক বিশ্বদর্শনের।
ধনকুবের ইলন মাস্কের দাবি, এআই আর মানবিক রোবট এমন উৎপাদনশীল হবে যে, টাকা অর্থহীন হয়ে পড়বে। অধিকাংশ চাকরি পরিণত হবে ব্যক্তিগত পছন্দ-মাফিক শখের কাজে। দরিদ্রতা নিমূর্লের বাস্তবতাকেও তিনি ভবিষ্যতের খুব স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবে দেখছেন।
আমেরিকান প্রযুক্তি কোম্পানি এনভিডিয়ার প্রধান জেনসেন হুয়াংয়ের সঙ্গে কথোপকথনের সময় করা এই মন্তব্য মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে বিশেষ করে প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে এ নিয়ে শুরু হয়েছে এক নতুন উন্মাদনা।
চলতি বছরের অক্টোবরে ইলন মাস্ক একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন। তখন তিনি লিখেছিলেন, ‘ভবিষ্যতে কাজ করা ঐচ্ছিক হবে। থাকবে সর্বজনীন উচ্চ আয়।’
ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন–সৌদি বিনিয়োগ ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এবার আরও স্পষ্ট করে বলেন, ‘মুদ্রা (টাকা) অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাবে। বিদ্যুৎ আর ভরের মতো বাস্তব সীমাবদ্ধতা থাকবে, কিন্তু টাকা আর কোনো কাজে লাগবে না।’
তার ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবে রূপ নেওয়া খুব বেশি দূরে নয়। মাস্কের ভাষায়, মানব সভ্যতার পরবর্তী অধ্যায় যেন ঠিক এখনই দরজায় কড়া নাড়ছে। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদ বলতে হয়তো ১০, ২০ বছর। আমার ধারণা, এই সময়ের মধ্যেই কাজ ঐচ্ছিক হয়ে যাবে।’ মাস্কের ভাষ্য, যখন রোবটরা মানুষের হয়ে প্রায় সব শ্রম দেবে, তখন কাজ হবে ঠিক যেমন নিজের খাবার কিনে আনার বদলে নিজের বাগানে সবজি ফলানো। প্রয়োজনের জন্য নয়, বরং খুশি হলেই মানুষ কাজ বেছে নেবে।
মাস্ক ব্যাখ্যা করেন, ‘খেলাধুলা, ভিডিও গেমের মতোই হবে ব্যাপারটা। চাইলে দোকান থেকে সবজি কিনে আনতে পারো অথবা বাগানে চাষ করতে পারো। বাগানে চাষ করা কঠিন, তবু কেউ কেউ তা করে, কারণ তারা সেটা ভালোবাসে।’
এআই আর রোবোটিক্সের উন্নত উৎপাদনশীলতা মৌলিক পণ্যের দাম কমিয়ে দেবে বলে মনে করেন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান টেসলার সিইও। আর তাতেই দারিদ্র্য হবে অতীত। তিনি বলেন, ‘দারিদ্র্য দূর করার কথা বহু বছর ধরে বলা হয়েছে। অগণিত এনজিও কাজ করেছে কিন্তু ফলাফল আমাদের চোখের সামনেই। এআই আর মানবিক রোবটই দারিদ্র্য দূর করবে। টেসলা একা নয় অনেক কোম্পানিই মানবিক রোবট তৈরি করবে। সবাইকে ধনী করার একটাই পথ, আর তা হলো এআই আর রোবোটিক্স।’
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি