প্রকাশিত : ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ২:৪০:৪৮
জোর করে দলীয় সভায় নিয়ে যাওয়া হয় অটোচালক সাবির মীরকে। এ ছাড়াও দলীয় নেতাকর্মীদের সভায় আনার জন্য চাপ দেওয়া হয়। কিন্তু অসুস্থ থাকায় প্রথমে অস্বীকৃতি জানান তিনি। পরে চাপের মুখে লোক নিয়ে যেতে বাধ্য হন এই অটোচালক। সভা শেষে সবাইকে ফিরিয়েও আনেন। ভাড়া দেওয়া হয় মাত্র ১৫০ টাকা।
তবে প্রথমে কেন যেতে রাজি হননি- এনিয়ে মারধর করা হয়। আত্মসম্মানে আঘাত হানায় ক্ষোভে ফেসবুক লাইভে এসে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন সাবির মীর। ভাগ্য সহায় থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়িতে নেওয়া হয়েছে সাবির মীরকে। ঘটনাটি পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগণার মন্দিরবাজার এলাকার।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম জানায়, সোমবার মন্দিরবাজারে বিরোধী দলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীর সভার পর মঙ্গলবার তৃণমূলের পাল্টা সভা ছিল। অভিযোগ, সেই সভায় ঘাটেশ্বরার অটোচালক সাবির মীরকে দলীয় কর্মী–সমর্থকদের আনার জন্য চাপ দেওয়া হয়। অসুস্থ থাকার কারণ দেখিয়ে প্রথমে যেতে রাজি না হলেও পরে চাপের মুখে অটো চালিয়ে সভায় লোক নিয়ে যেতে বাধ্য হন তিনি। সভা শেষে সবাইকে ফিরিয়েও আনেন। তৃণমূলের পক্ষ থেকে তাকে ১৫০ টাকা ভাড়াও দেওয়া হয়।
তবে কেন তিনি প্রথমে যেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন—এ কথা ঘিরে তাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবির। আরও অভিযোগ, দুর্গাপুর–বিজয়গঞ্জ রুটে টোটো চালানোও নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়।
সাবির বলেন, ‘রুটে অটো নিয়ে নামতে ১১ হাজার টাকা দিতে হয়, পরে প্রতিদিন ১০ টাকা করে জমা। এই টাকা দলের তহবিলেও যায় না। এমন অবস্থায় কাজ বন্ধ হয়ে গেলে চলবে কী করে?’
ঘটনার পর রাতেই তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ অভিযোগ নেয়নি বলে দাবি করেন সাবির। বুধবার দুপুরে আবার থানায় গেলে তাতেও কোনো সুরাহা হয়নি। সাবিরের পরিবারের অভিযোগ, থানায় ফেরার পথে তাকে আবারও হেনস্তা করা হয়। পরে বিকেলে বাড়ি ফিরে ফেসবুক লাইভে পুরো ঘটনা বর্ণনা করে তিনি কীটনাশক পান করেন।
দ্রুত উদ্ধার করে সাবিরকে নাইয়ারহাট ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হলে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। বর্তমানে তিনি পরিবারের কাছে ফিরে গেছেন।
এ ঘটনার একটি ভিডিও এক্সে পোস্ট করেন প্রতিবাদ জানান কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার। তবে তৃণমূল অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, এটি বিজেপির রাজনৈতিক চক্রান্ত।