হামলার পটভূমি
গত সপ্তাহে ইসরায়েলের সহায়তায় পরিচালিত একটি মার্কিন সামরিক অভিযানে ইরানের অন্তত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, এই স্থাপনাগুলো থেকে আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর হুমকি ছড়ানো হচ্ছিল।
পেন্টাগনের মতে,
“এই হামলা ছিল আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ, যাতে ইরানের হুমকি প্রতিহত করা যায়।”
ইরানের প্রতিক্রিয়া ও হুঁশিয়ারি
হামলার পরপরই ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, “এই আগ্রাসন আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে।” দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি একে ‘নির্লজ্জ যুদ্ধপ্ররোচনা’ হিসেবে অভিহিত করেন। ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে হুমকির মুখে রেখেছে এবং নিজস্ব প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রেখেছে।
আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইনসহ বহু দেশ তাদের কূটনৈতিক মিশনে সুরক্ষা জোরদার করেছে। ইসরায়েল তাদের বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া ও চীন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং পক্ষগুলোকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসেও এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে কেউ সমর্থন, কেউ সমালোচনা করেছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘর্ষ সরাসরি যুদ্ধের দিকে গড়ালে মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ, নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের হুঁশিয়ারি ও সামরিক প্রস্তুতি মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় কূটনৈতিক পদক্ষেপই একমাত্র পথ হতে পারে এই সংকট প্রশমনের।