যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে মধ্যপ্রাচ্য
ইরানের হুঁশিয়ারি ও সামরিক প্রস্তুতি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, “আমাদের বিরুদ্ধে আঘাত এলে আমরা দ্বিগুণ জবাব দেব। আপস নয়, সংগ্রামই হবে একমাত্র পথ।” দেশটির সামরিক বাহিনীও সীমান্তজুড়ে উচ্চমাত্রার সতর্কতা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে। ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আকাশ ও ভূমি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ‘পূর্ণ প্রস্তুতি’ ঘোষণা করা হয়েছে, এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে টানাপোড়েন ও জোট গঠন
অন্যদিকে, ইসরায়েল হামাস ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রও তার নৌবাহিনী ও বিমানঘাঁটি মোতায়েন বাড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উত্তেজনার ফলে একটি ত্রিমুখী সংঘর্ষে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোট।
বিশ্বনেতাদের উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন,
“এই উত্তেজনা শুধুই মধ্যপ্রাচ্য নয়, গোটা বিশ্বের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলতে পারে।”
রাশিয়া ও চীন উভয় দেশই শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে এবং একতরফা সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে,
“কূটনৈতিকভাবে সমাধানের পথই একমাত্র টেকসই বিকল্প।”
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. ফারহান হোসেন বলেন, “ইরান যদি সত্যিই সামরিকভাবে বড় কোনো পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তা দ্বিতীয় মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের রূপ নিতে পারে।” বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানির বাজার এবং শরণার্থী পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরানের হুঁশিয়ারি ও প্রতিপক্ষদের আগ্রাসী কৌশল বিশ্বকে এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যদিও এখনো কূটনৈতিক পথ উন্মুক্ত, কিন্তু তা দ্রুত পদক্ষেপ ছাড়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে। প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—বিশ্ব কি সত্যিই আরেকটি যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে?