রাজধানী কারাকাস ছাড়াও আরও কয়েক জায়গায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন ভেনেজুয়েলার পেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। শনিবার (৩ জানুয়ারি) মধ্যরাতে ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন জায়গা বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে।
ফ্রান্স ২৪ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, হামলার পরপরই প্রেসিডেন্ট মাদুরো দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন এবং সমর্থকদের ‘গণসংহতিতে’ অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
ভেনেজুয়েলার সরকারের অভিযোগ, কারাকাসের পাশাপাশি মিরান্ডা, আরাগুয়া ও লা গুয়াইরা রাজ্যের বিভিন্ন বেসামরিক ও সামরিক এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হামলা চালিয়েছে। সরকারি বিবৃতিতে এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত গুরুতর সামরিক আগ্রাসন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এর নিন্দা জানানো হয়।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো সোশ্যাল হ্যান্ডেল এক্সে ভেনেজুয়েলার সরকারি বিবৃতি শেয়ার করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, এই হামলা জাতিসংঘ সনদের অনুচ্ছেদ ১ ও ২–এর স্পষ্ট লঙ্ঘন, যা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, আইনি সমতা এবং বলপ্রয়োগের নিষেধাজ্ঞার কথা বলে।
ভেনেজুয়েলার দাবি, এই আগ্রাসন লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ।
সরকারি বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার কৌশলগত সম্পদ, বিশেষ করে তেল ও খনিজ ভাণ্ডারের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে এ ধরনের হামলা চালাচ্ছে। তবে ভেনেজুয়েলার সরকার বলেছে, এ প্রচেষ্টা সফল হবে না।
মাদুরোর সরকার দেশের সব সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তিকে রাস্তায় নেমে এই ‘সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন’ প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট মাদুরো ‘সব জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা সক্রিয় করার’ নির্দেশ দিয়েছেন এবং দেশকে ‘বহিরাগত অস্থিরতার’ মধ্যে রয়েছে বলে ঘোষণা করেছেন।
এদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলায় মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামরিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। কয়েক মাস ধরে ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি জোরদার করার পর এই অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড বিমানবাহী রণতরীসহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন ছিল।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভেনেজুয়েলার উপকূলে যুক্তরাষ্ট্র দুটি তেল ট্যাংকার আটক করেছে এবং ৩০টির বেশি নৌকায় হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব নৌকায় মাদক পাচার হচ্ছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এসব অভিযানে অন্তত ১১৫ জন নিহত হয়েছে।
এর আগে এক পূর্বধারণকৃত সাক্ষাৎকারে মাদুরো বলেন, ক্যারিবীয় সাগরে মার্কিন সামরিক মোতায়েনের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই চাপের লক্ষ্য ভেনেজুয়েলায় সরকার পরিবর্তন এবং দেশটির বিশাল তেলসম্পদের ওপর দখল প্রতিষ্ঠা করা। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অবশ্য এসব অভিযানের উদ্দেশ্য হিসেবে দেশটিতে মাদকের প্রবাহ ঠেকানোর কথা বলা হয়েছে।